বগুড়ার ধুনটে টানা ১১ দিনের বন্যায় রাস্তা-ঘাট, খাদ্য-শস্য ও অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বন্যা কবলিত এলাকায় পানিতে ডুবে ও বিষাক্ত সাপের ছোবলে নারী শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে উপজেলার চরখুকশিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ হক (৭), আব্দুল বাকির মেয়ে সাফি খাতুন (১৩) ও সাহেব আলীর মেয়ে মনিকা খাতুন (১৪) পানিতে ডুবে মারা যায়।
এছাড়া বড়চাপড়া গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে আফিজার রহমান (৪০) ও পূর্ব ভরনশাহী গ্রামের ইছাহাক আলীর ছেলে ইমদাদুল হক খোকনের (২৫) সাপের ছোবলে মৃত্যু হয়।
বন্যার পানি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া বিভিন্নভাবে আহত হয়েছে অন্তত ৫০ জন।
ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনায়েত কবির ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বন্যার পানি থেকে পরিচয়হীন ভাসমান মৃতদেহ বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
ধুনট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ জানান, ১১ দিনের বন্যায় শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য, রাস্তা-ঘাট ও বাড়ি-ঘরসহ প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এর মধ্যে ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ও অবকাঠামোর ক্ষতি কোটি টাকা, প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি ৩৬ কোটি টাকা, এক হাজার পুকুর বা জলাশয়ের মাছ ভেসে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি, রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ কালভার্টের ক্ষতি ৬ কোটি টাকা এবং উপজেলার ১৭০টি গ্রামের প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের বসতবাড়ির ক্ষতি ৫৬ কোটি টাকা।
চিকাশি ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জুয়েল জানান, সরকারি সাহায্য সহযোগীতা ছাড়া বন্যায় সার্বিক ক্ষতি পুশিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই জরুরি ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সরকারের নজর দেয়ার আহবান জানান তিনি।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান জানান, বন্যায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





