যশোরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটকৃতদের নিয়ে প্রতারণায় নেমেছে একটি মহল। ডেপুটি জেলার পরিচয়ে বন্দীদের বাড়িতে ফোন করে বলছে আমি ডেপুটি জেলার অমুক বলছি। জেলখানায় থাকা আপনার স্বজন হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় খুলনা শেখ আবু নাছের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন আপনারা অমুক মোবাইল নম্বরে এত টাকা এক্ষুণি বিকাশ করে দিন। আর আবু নাছের হাসপাতালের ডাক্তারের সেল ফোন নম্বর দিয়ে বলা হচ্ছে এটি ডাক্তারের নম্বর। এখানে যোগাযোগ করন। আর অমুক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন।
এমন একটি প্রতারণার ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার যশোরের চৌগাছার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের আটককৃত জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল আলীমের ক্ষেত্রে। আব্দুল আলীম সোমবার চৌগাছা পুলিশের হাতে আটক হন। যথারীতি পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলীমকে আটককারী পুলিশ কর্মকর্তা চৌগাছা থানার এএসআই জামাল পরিচয় দিয়ে ০১৭০৫৬৩৫৯৩৮ থেকে ফোন করা হয় সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল মতলেবের কাছে। তার কাছ থেকে আলীমের গ্রাম রামকৃষ্ণপুর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার তারিক হাসান বাবুলের নাম্বর নিয়ে ফোন দিয়ে বলা হয়। আব্দুল আলীম মারাত্মক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনা শেখ আবু নাছের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য ৯০ হাজার টাকা দরকার। সংবাদটি তার পরিবারের কাছে দিয়ে দিন। আরও বলা হয় তার পরিবার অতিদ্রুত যশোরের ডেপুটি জেলার আনোয়ার হোসেনের ০১৭৭৫০০৭০৬৮ এবং খুলনা শেখ আবু নাছের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার শহিদুল ইসলামের ০১৭৫৭০২২৬০২ নম্বরে অতি সত্ত্বর যোগাযোগ করে।
সংবাদটি পেয়ে আব্দুল আলীমের পরিবার স্থানীয় এক সাংবাদিককে বিষয়টি বলে। ওই সংবাদিক যোগাগাযোগ করলে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে বলেন তার গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন করতে হবে এখনি ৯০ হাজার টাকা প্রয়োজন। এসময় সাংবাদিক পরিচয় দিলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। পরে ওই চক্রের তিনটি নাম্বারের কোনটিতেই আর যোগাযোগ করা যায় নি। পরে অন্য মোবাইল থেকে যোগাযোগ করলে বলে আপনারা ‘সাংবাদিক-পুলিশ করছেন, সাংবাদিক-পুলিশ নিয়েই থাকেন’। রোগীর দরকার নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় এর আগে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এমএ সালাম জেলখানায় থাকাকালে এমনি একটি প্রতারক চক্র এভাবে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া চৌগাছা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মজিদের ছেলে সানি একটি মামলায় জেল খানায় থাকা অবস্থায় এভাবে একটি প্রতারক চক্র ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
তবে যশোর জেলখানার ০৪২১৬৮১০০ টেলিফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, ‘এই নামে আমাদের কোন ডেপুটি জেলার নেই।’ আরও সাবধান করে দেয়া হয় আপনারা প্রতারণার শিকার হবেন না।
এমআইএস





