মুক্তিপণের টাকা না দেয়ায় চাচাতো বোনের স্বামী ও তার স্বজনদের হাতে জীবন দিতে হলো পাবনার কলেজছাত্র মাসুমকে। অপহরণের ১৮ দিন পর রবিবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া এলাকার অদূরে যমুনা নদীর চর থেকে মাসুমের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মাসুম পাবনা জেলার আমিনপুর উপজেলার কাবাশকান্দা গ্রামের মুকুল শেখের ছেলে। সে সুজানগর উপজেলার ডা. জহুরুল কামাল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। অপহরণের অভিযোগে পাবনার সুজানগর থানা-পুলিশ মাসুমের দুলা ভাই আজিমসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, গত মাসের ১৯ তারিখ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাসুমের চাচাতো বোন রুপার স্বামী তাকে কলেজ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাইশা গ্রামে আজিমের আত্মীয়ের বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়। অপহরণের পর মাসুমের ভাবির মোবাইল ফোনে আজিম ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ফোনে সে জানায় যথাসময়ে টাকা না দিলে মাসুমকে হত্যা করা হবে।

অপহরণের ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর মাসুমের বড় ভাই শিহাব উদ্দিন আজিমকে আসামি করে সুজানগর থানায় অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজিমের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর আজিমকেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আজিম সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মিনি দিয়ারচর গ্রামের নুরে আলমের ছেলে। গ্রেফতারের পর আজিম পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আদালতের বিচারক এ কে এম রৌশন জাহানের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি মাসুমকে অপহরণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নাজমুল নিশাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেআই