হরতালের প্রথম দিনে সিলেটে জামায়াত শিবিরে সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

বুধবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে নগরীর শেখঘাট এলাকায় জামায়াত শিবিরে সঙ্গে পুলিশের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, সকাল সোয়া ১১টার দিকে নগরীর শেখঘাট পয়েন্ট থেকে জামায়াত শিবির কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি কিছুদূর গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। সে সময় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত শিবিরের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় পুলিশ জামায়াত শিবিরকে লক্ষ্যে করে গুলি ছোঁড়ে। জামায়াত শিবির কর্মীরাও পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্যে করে বোমা নিক্ষেপ করে এবং ধাওয়া করে। তখন অন্তত ১৫/২০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ পিছনে সরে আসলে তখন জামায়াতশিবির কর্মীরা পালিয়ে যায়।

এ ছাড়া জামায়াতের ডাকা হরতালের প্রথম দিনে সিলেটের বেশ কয়েক জায়গায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা সড়ক অবরোধ এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেছে।

বুধবার সকালে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করার চেষ্টা করে তারা। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে চারটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় চন্ডিপুল নামক এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। কিছুক্ষণ অবস্থান করে পুলিশ আসার আগেই তারা পালিয়ে যায়।

একই সময় শহরতলীর টুকেরবাজার এলাকার অনন্তপুর নামক স্থানে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে জ্বায়ার জালিয়ে পিকেটিং করে জামায়াত-শিবিরি নেতাকর্মীরা। সেখানেও পুলিশ গেলে পালিয়ে যায় তারা। তবে সকাল ১০টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাঙ্গাইলের ধরপুর তিনটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি ট্রাক ভাঙচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা।

এ ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন স্থানে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও পিকেটিং করার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকায় তারা রাজপথে নামতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর প্রেক্ষিতে ওইদিন দুপুরে দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলবে।

এএইচ