পদ্মায় লঞ্চডুবির ঘটনায় মোট ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যায়। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ ১৬ টি লাশ উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে সাতটি মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি নয়টি শনাক্ত না হওয়ায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা যায়নি।
উল্লেখ্য, সোমবার কাওড়াকান্দি থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়াঘাটে আসার সময় সকাল ১১টার দিকে প্রায় আড়াইশ যাত্রী নিয়ে পিনাক-৬ নামে একটি লঞ্চ ডুবে যায়।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত লঞ্চটির সন্ধান না মিললেও এ পর্যন্ত মোট ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, হস্তান্তর হয়েছে সাতটি, অশনাক্ত রয়েছে ছয়টিএবং প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী নিখোঁজের সংখ্যা ১৩২ জন। এ ছাড়া লঞ্চডুবির সঙ্গে সঙ্গে ৪০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে সোমবার মাওয়া এলাকার পদ্মানদী থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পর মঙ্গলবার মাদারীপুরের হাইমচর থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তবে বুধবার সকাল থেকে ভোলা, চাঁদপুর ও শরীয়তপুরে নদী থেকে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সব মরদেহ লঞ্চ পিনাক-৬-এর যাত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত ভোলা সদর থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে ভোলা সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের রামদাসপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে সকাল নয়টায় ফাহাদ (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় জেলেরা।
ভোলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ এর যাত্রী। তার নাম ফাহাদ, বাড়ি ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায়।
এরপর সকাল ১১টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার কাছিয়া ইউনিয়নের কাঠিরমাথা এলাকার মেঘনা পাড় থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় জেলেরা।
এরপরে দুপুর ১২টার দিকে ভোলা সদর উপজেলারই পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের মেঘনা নদীর মিয়ারহাট লঞ্চঘাট থেকে অজ্ঞাতপরিচয় আরো এক কিশোরীর (১৪) মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
দুপুর দুইটার দিকে ভোলা সদর উপজেলারই পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ভাংতির খালে অজ্ঞাতপরিচয় আরো একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে জেলেরা মরদেহটি ভাসতে দেখে খবর দিলে পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
এরপর ভোলার ইলিশা ঘাট এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত-পরিচয় (৩৫) এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
অপরদিকে, শরীয়তপুর সদর ও সুরেশ্বর থেকে মোট চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর একটি নারীর মরদেহ।
চাঁদপুর থেকে কাদের পলাশ জানান, বুধবার হাইমচর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক কিশোরসহ মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তিনটি ও মঙ্গলবার দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সোমবার সকালে ঈদের ছুটি শেষে কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়াঘাটে আসার সময় মাওয়াঘাটের কাছে লৌহজং চ্যানেলে আড়াইশ যাত্রী নিয়ে পিনাক-৬ নামে একটি ছোট লঞ্চ ডুবে যায়।
এক যাত্রী অভিযোগ করেন, লঞ্চটি প্রবল স্রোতের মধ্যে সোজাসুজি নদী পাড়ি দিতে গিয়ে পদ্মায় ডুবে যায়।
ঘটনার পর থেকে র্যাব, পুলিশ, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার পর্যন্ত ১২টি মরদেহ উদ্ধার হলেও লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
এদিকে, মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের তৈরি তালিকায় বুধবার সকাল পর্যন্ত ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ এর ১৩২ যাত্রী বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন।
ভোলা, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুরে সাত মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মোট উদ্ধার ১৬টির মধ্যে সাতটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো নয়টি মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
মাওয়াঘাটের কাছাকাছি থেকে মাদারীপুরের দুজনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন- মাদারীপুর জেলার শিবচরের হীরা (২২)। তিনি গোয়াতলা গ্রামের নুরুল হকের সন্তান।
এছাড়া মাদারীপুরের উতরাইল থানার হাসি বেগমের (৩৮) মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলার নদী থেকে উদ্ধার ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার ফাহাদের (২৪) মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বাবার নাম লুৎফর রহমান।
শরীয়তপুর জেলার জাজিরার জান্নাতুন মাওয়া লাকির (২০) মরদেহও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মরদেহটি সুরেশ্বর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
চাঁদপুরের হাইমচর থেকে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার রিতা আক্তারের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রিতার মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা আব্দুল হাই খলিফা।
এছাড়া ওয়াপদা সুরেশ্বর থেকে শিবচর মাদারীপুরের মিজানুর রহমানের (৩৬) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাবার নাম নুরূল ইসলাম হাওলাদার।
একই এলাকা থেকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জামালের (২৭) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাবার নাম ফরিদউদ্দিন। উভয়ের মরদেহ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা, ৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





