রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় এক ব্যক্তিকে গভীর রাতে আটক করে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে ওই ব্যক্তির বউকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে পুলিশের দুই সোর্স।
অপরদিকে পুলিশ থানা হাজতে আটকে রেখে মোস্তফা নামে ওই ব্যক্তিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালায়। পরে মায়ের মৌখিক মোচলেকা আর ২ হাজার টাকার বিনিময়ে মোস্তফাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
জানা গেছে, আদাবর থানা এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে আসছেন ধর্ষণের চেষ্টাকারী ওই দুই ব্যক্তি। তারা হলেন, আমজু চোরা ও মাহবুব।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে আদাবর এলাকার মনসুরাবাদের ১০ রোড থেকে মোস্তফাকে আটক করে পুলিশে ধরিয়ে দেয় পুলিশের ওই দুই সোর্স।
তবে ঘটনার খবরে যোগাযোগ করা হলে আদাবর থানার পুলিশ সোর্স ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে। তবে মোস্তফাকে আটক করা হলেও ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
এ ব্যাপারে মোস্তফার বউ আদাবর থানায় একটি নির্যাতনের মামলা দিলেও তা ইজাহার ভুক্ত করে নি পুলিশ। সন্ধ্যা ৬টার খবর অনুযায়ী ভুক্তভোগী মোস্তফার পরিবার মামলার কোনো কপিও পান নি বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নির্যাতনের শিকার মোস্তফার মা নাসিমা আক্তার টাইমনিউজবিডিকে বলেন, মোস্তফা আদাবরের ১৬ নাম্বার রোডের একটি বাসায় বউ নিয়ে থাকে। আর আমি থাকি মনসুরাবাদের ১০ নাম্বার রোড সংলগ্ন অপর বাসায়। দারুস সালামে একটি রিক্সা গ্যারেজের পাশে আমার দোকানে কাজ করে মোস্তফা।
সোমবার রাত দুইটার পর কাজ করে ফেরার পথে পুলিশের দুই সোর্সের কথায় এসআই মারুফ হাসান রাসেল এবং এ এসআই মো. আব্বাস আলীসহ বেশ কয়েকজন ডিউটিরত পুলিশ সদস্য মোস্তফাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অপরদিকে এই সুযোগে পুলিশের দুই সোর্স আমজু চোরা ও মাহবুব মোস্তফার বাসায় যায়। সেখানে অন্ধকার রাতে ছেলের অনুপস্থিতিতে বউ কুলসুমকে ধর্ষণ করার চেষ্টা চালায়। পরে কুলসুমের চিতকারে তারা পালিয়ে যায়।
ছেলেকে পুলিশের লোকজন ধরে নিয়ে গেছে রাস্তার পাহাড়াদারদের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে থানায় যান মা নাসিমা বেগম।
তিনি বলেন, ছেলেকে ধরে আনার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, মোস্তফা ইয়াবা সেবন করে নিয়মিত। তাই তাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
মোস্তফার মা নাসিমা জানান, ছেলেকে ছেড়ে দেবার জন্য অনুরোধ করা হলে পুলিশ ৫ হাজার টাকা দাবি করে। নইলে ছেলেকে চালান করে দেবে বলে হুমকি দেয়। পরে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে মোস্তফাকে ছাড়িয়ে আনেন।
স্বামীর আটকের খবরে পরে মোস্তফার বউ কুলসুম থানায় আসলে ওই দুই সোর্সকে চিনতে পারেন যে তারা রাতে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ছিল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হলে এসআই মারুফ হাসান রাসেল টাকা ফেরত দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। এ এসআই মো. আব্বাস আলী ছেলেকে আবার আটক করার হুমকি দেন।
এব্যাপারে মোস্তফার স্ত্রী বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি নির্যাতনের মামলা লেখেন। তবে সর্বশেষ খবর পর্যন্ত পুলিশ মামলা ইজাহার ভুক্ত করে নি বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে আদাবর থানার ওসি গাজী রুহুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, কাউকে আটক করে নির্যাতন বা সোর্স কর্তৃক ধর্ষনের কোনো খবর তিনি পাননি। আদাবর থানায় পুলিশের সোর্স হিসেবেও কাউকে ব্যবহার করা হয়না বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসআই মারুফ হাসান রাসেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আদাবর থানায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কয়েকজনকে ব্যবহার করা হয়। তবে তথ্য ফাঁসের স্বার্থে বিষয়টি প্রকাশ করা হয় না। তিনি মোস্তফাকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকার বিনিময়ে মোস্তফাকে ছাড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
ঢাকা, জেইউ, ২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





