দারিদ্র সীমার সর্বনিম্নে বসবাস করলেও নিজের মেধা ও প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে সকল প্রতিকূলতাকে পদাঘাত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে রমানাথ চন্দ্র মহন্ত। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের হতদরিদ্র ও দিনমজুর রবিন চন্দ্র মহন্ত এর ছেলে রমানাথ চন্দ্র মহন্ত।

সাদুল্যাপুর বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে (বিজ্ঞান বিভাগ) দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন এ+ পেয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে রমানাথ চন্দ্র মহন্ত।

এছাড়াও ইতিপূর্বে প্রাথমিক পর্যায় অগ্রণী কিন্ডার গার্ডেন স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণীতে ট্যানেলপুলে বৃত্তি ও ৮ম শ্রেণীতে বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ট্যানেলপুলে বৃত্তি পেয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। সে মানবজাতীর সেবাদানের লক্ষে ভবিষ্যৎ একজন ডাক্তার হতে চায়।

বাবা রবিন চন্দ্র মহন্ত পেশায় একজন দিনমজুর। দিন আনে দিন খায়। অর্থাৎ অন্যের বাড়িতে একদিন শ্রম না দিলে পেটে ভাত জোটে না। অনেক সময় খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয় তাদের।

মাতা পুতুল রানী কখনো বসে থাকে না। সেও মাঝে মধ্য অন্যের বাড়িতে শ্রম দিয়ে থাকেন। রমানাথ চন্দ্র মহন্ত লেখা-পড়ার পাশাপাশি অসহায় বাবার সাথে প্রায়ই সহযোগীতা করতো। কিন্ত তার অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা পেয়ে কঠোর অধ্যবসায়ের মধ্যে দিয়ে আজ সে ভাল ফল করেছে।

আবেগ-আপ্লুত হয়ে রমানাথ চন্দ্র মহন্ত বলে, ভাল ফলাফলের জন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞা। উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে অসহায় বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে চাই। কিন্ত আর্থিক দৈন্যতার কারণে সে পথ পাড়ি দিতে পারবো কিনা সংসয় হয়।

মা পুতুল রানী আনন্দ অশ্রুতবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একটি মাত্র ছেলে রমানাথ চন্দ্র মহন্তকে অন্য দশজন ছেলের মতো ভরণ-পোষণ ও ভাল খাবার দিতে পারিনি।

রমানাথ চন্দ্র মহন্ত এর কোনো ভাই নেই। তবে বোন ৪ জন। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে রমানাথ চন্দ্র মহন্ত চতুর্থ। বড় ৩ বোনের বিয়ে দিয়ে একেবারই নিঃশ্ব হয়ে পড়েছে তার বাবা। ছোট বোন সোহাগী রানী স্থানীয় দাউদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।

এক সময় রমানাথ চন্দ্র মহন্ত ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর অর্থাভাবে লেখা-পড়ায় থমকে দাড়ায়। এসময় সাদুল্যাপুর ডিগ্রী কলেজের সাবেক ভিপি ও ৯০ দশকের ছাত্রনেতা আ.স.ম সাজ্জাদ হোসেন পল্টন ওই মেধাবীর সহযোগীতার জন্য বিভিন্ন জনের কাছে হাত বাড়ান।

এভাবে মেধাবী ছাত্র রমানাথ চন্দ্র মহন্তকে লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য নানা ভাবে সহযোগীতা করেন সাংবাদিক মকছুদার রহমান, ইমরুল কায়েস ইমন, সমাজ সেবক শামসুজ্জোহা প্রামানিক রাঙ্গ ও শিক্ষক সহ আরও অনেক সুধী মহল।

বাবা-মা ও স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগীতায় এবং রমানাথ চন্দ্র মহন্তর প্রবল ইচ্ছা শক্তিতে অবশেষে গোল্ডেন এ+ পেয়ে কৃতিত্ত অর্জন করেছে।

এভাবে রমানাথ চন্দ্র মহন্ত সবকিছু পিছনে ফেলে এগিয়ে যায় দূর্বার গতিতে। দারিদ্রতাকে তুচ্ছ করে শিক্ষা জীবনের প্রথম সিড়ি অতিক্রম করলেও রমানাথ মহন্ত ডাক্তার হবার মনোবাসনা পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সে খুবই চিন্তিত।

তবে নিজের বাঁধ না মানা ইচ্ছা শক্তির বলে চুড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছার আশায় সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছে। সেই সাথে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে।

এআর