কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিককর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। কারণ তনুর জায়গায় আমাদেরও কোনো আপনজন থাকতে পারতো। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে নারী শিক্ষা হুমকির সম্মুখীন হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী নেত্রীরা এ কথা বলেন। এসময় তারা তনু হত্যাকরীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তনুর বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় যুব জোটের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রোকসানা খাতুন। তিনি বলেন, একজন নারী যখন নির্যাতনের শিকার হয় তখন তার ছবি তোলার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক সচেতন হওয়া দরকার।
এসময় এ নারী নেত্রী আপত্তিকর ছবি প্রকাশ না করার জন্য গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানান।
রোকসানা খাতুন বলেন, এ ধরনের অপরাধীরা শুধু সোহাগী জাহান তনুকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করেনি। এরা হত্যা করেছে আমাদের বিবেক ও ১৬ কোটি বাঙালির সম্ভ্রমকে। তাই তনু হত্যাকাণ্ডের সব দায়ভার আমাদের। এ দায় যেমন আমরা এড়াতে পারি না তেমনি সরকারও এড়াতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি হত্যাকারী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, রাষ্ট্র চাইলে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবে। নইলে আমাদের বোনেরা নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে না। অপরাধীরা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।
মানববন্ধনে নারী জোটের আহ্বায়ক আফরোজা হক রীনা বলেন, নারীর উপর নির্যাতন বেড়েই চলছে। এসব ঘটনা খুবই অমানবিক। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন নারী জোটের মহানগর আহ্বায়ক সৈয়দা শামিমা হ্যাপি, জাতীয় যুব জোটের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রোকসানা খাতুন, কর্মজীবী নারীর সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল, ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক রাহেনা রব্বানী, কন্যাশিশু অ্যডভোকেসি ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়লা দিপু, বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নেত্রী ক্যামেলিয়া চৌধুরী প্রমুখ।
ওএফ





