মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা আরাকান মুসলিমদের মধ্যে রয়েছে বেশির ভাগ শিশু। তাদের কেউ নবজাতক, কারো বয়স ২-৪০ দিন, আবার ৮ থেকে ৯ মাস। কারও বয়সটা ২-৩ বছর ছাড়িয়েছে, কারও আবার ৫ হবে। অনেকের বয়স ৫ থেকে ১০ এর মধ্যে। তবে সবার পেটেই ক্ষুধা। ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে কেউ টেকনাফ কাঁপিয়ে কাঁদছে, কেউ হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে অন্যের কাছে। একটু ত্রাণ পেলেই তা নিয়ে চলছে কাড়াকাড়ি।
ঠিকমতো খেতে না পাওয়ায় নানা রকম রোগে ভুগছে সব শিশু। রোদে-বৃষ্টিতে ভিজে এরই মধ্যে জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু। অনেকেরই ডায়রিয়া-নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। শুধু শিশুরা নয় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন নারীরাও। বিশেষ করে নবজাতকের মা ও গর্ভবতী নারীদের যে স্বাস্থ্য পরিচর্যা প্রয়োজন তার কিছু নেই এদের।
মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭০ কিলোমিটার সীমান্তপথের মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের ২২টি পয়েন্ট দিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে উখিয়ার পালংখালীর আনজুমান পাড়া ও সাহেবপাড়া এবং টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে।
উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়, মূল ক্যাম্পের পাশে অস্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলেছে নতুনভাবে আসা রোহিঙ্গারা। পাহাড়ের ঢালে, রাস্তার পাশে, জমিতে বাঁশের মাচা আর ত্রিপল দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত বসতি। এসব ঘরে আছে কয়েক হাজার পরিবার।
এদের মাঝে বেশির ভাগই শিশু। প্রতিটি ঘরেই রয়েছে ৫ জনের বেশি শিশু। কোন ঘরে ১০-১২ জন করেও শিশু রয়েছে। এদের অধিকাংশের বয়স আবার ৫ বছরের নিচে। এর মধ্যে আবার এক বছরের নিচের শিশুই বেশি। অনেকের ঘরে রয়েছে ৬-৭ দিনের নবজাতকও।
নয়া পাড়া এলাকায় কথা হয় আয়শা খাতুনের সঙ্গে। বার্মা থেকে ৪ সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে এসেছেন তিনি। আর বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ১ দিন পরেই তার ১টি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এদের মাঝে, ওমরের বয়স ২ বছর ও রফিকের ৩। বাকীদের বয়স ৫-১০ বছরের মধ্যে।
নয়া পাড়া এলাকায় এক বৃদ্ধ মহিলা বলেন, আমার স্বামীকে তারা জবাই করেছে, পালিয়ে আসার সময় আমার দুই যুবতি মেয়েকে তারা আটকিয়ে রেখেছে। কান্না করে বলেন, বাবা আমরা কি এটার বিচার পাবো না?
নবজাতক শিশু কোলে নিয়ে আরেক জন বলেন, ‘তিনটা এখনো কোলের বাচ্চা। কোলের বাচ্চাগুলোকে ঠিকমতো খাওয়াতে পারছি না। খেতে না পেরে বাচ্চাগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চিকিৎসাও করাতে পারছি না। নিজেরা যেখানে খেতে পারছি না, ডাক্তার দেখাবো কিভাবে।
বার্মা থেকে ৮ সন্তান নিয়ে আসা মোস্তফা বলেন, ছোটটার বয়স ৯ মাস। ওখানে সুজি আর কৌটার দুধ খাওয়াতাম। এখন কিছুই খাওয়াতে পারছি না। ক্ষুধার জ্বালায় বাচ্চা কাঁদছে। ১৫-১৬ দিন ধরে হেঁটে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে আসার সময় বাচ্চার জ্বর বেঁধে গেছে। ডাক্তারও দেখাতে পারছি না। বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারবো কিনা জানি না।
কেবি





