জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ফতেপুরে মন্টু শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মন্টু ফতেপুর গ্রামের বোধনপাড়া এলাকার আজমত আলী শেখের ছেলে। ঘটনার পর থেকে নিহতের ভাই আনসার আলী, তার বিয়াই আলাউদ্দিন ও ছোট ভাই বাবু পালতাক রয়েছেন।
মন্টুর স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, ৫২ শতক জমি নিয়ে তার স্বামী মন্টুর সঙ্গে আনসার আলী, ইনসার আলী ও বাবুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েক মাস আগে মন্টু চারঘাট মডেল থানায় তার ভাইদের নামে একটি অভিযোগও দায়ের করেন। পরে স্থানীয়ভাবে ওই জমির ২ শতক ছোটভাই বাবুকে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও জানান, ওই বিরোধপূর্ণ জমি রেজিস্ট্রির জন্য বুধবার তারা চারঘাটে যান। কিন্তু কাগজপত্রে জটিলতা থাকায় তা রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। ওই সময় ক্ষিপ্ত হয়ে আনসার আলী ও বাবু ভাই মন্টু শেখকে হত্যার হুমদি দেয়। এতে ভীত হয়ে মন্টু তার বড় মেয়ে নাজমা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি ফিরে রাতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
রাত ১২টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখেন তার স্বামী মন্টু বিছানায় নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্ত্রী নাজমা বেগমের।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার ভোরে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে থাকা একটি আম গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মন্টুর লাশ দেখা যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান হয়।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার গোলাম মতুর্জা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মন্টুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ আম গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৫২ শতক জমি নিয়ে মন্টু শেখের ভাইদের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। ঘটনার পর থেকে মন্টুর ভাই আনসার আলী ও বাবু এবং আনসার আলী বেয়াই আলাউদ্দিন পলাতক রয়েছে। ওই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
জেআই





