মাদারীপুর জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের কর্যক্রম  চালু ও সরকারিভাবে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘‘ঢাকাস্থ মাদারীপুর সোসাইটি’’ (ডিএমএস) জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

আজ ১৬ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৪ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ডিএমএসের প্রতিনিধি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা রাকিব হাসান সেলিম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজধানীর মানিক নগর আইডিয়াল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফারহানা আফরোজ রুনা এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিসেস রেকসনা।

ডিএমএসের পক্ষে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, কামাল হোসেন, আরিফ  হোসেন, এইচ এম বাবুল, ইঞ্জিনিয়ার মহব্বত হোসাইন, সাংবাদিক আবু বকর ‍ছিদ্দিক, হোসেন এম বাপ্পি, খন্দকার রাকিব, আবুল কালাম, মোহাম্মদ আবুল বাশার বেপারী, ডা. এম মোস্তাফিজ প্রমুখ। 

ঢাকাস্থ মাদারীপুর সোসাইটির প্রতিনিধি মাহাবুব আলম বলেন, মাদারীপুরে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি কি কারণে, কেন চালু করা হয় না, তা আমি বুঝতে পারছি না। করোনার এই সময়ে মানুষ প্রচুর ভোগান্তিতে আছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেুরোধ করছি, জেলার সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সমাধান করতে আপনারা জরুরী পদক্ষেপ নিবেন।  একেই সাথে মাদারীপুরে করোনার চিকিৎসার জন্য পি সি আর ল্যাব এবং আইসিইউ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফারহানা আফরোজ রুনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার দেশ চালালে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন হয়। সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আগামীতে পদ্মাপাড়ের জেলা মাদারীপুরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও মাদারীপুরের  চিকিৎসা ব্যবস্থার আরও উন্নয়নরে কাজ করবে। আশা রাখি, অল্প সময়ের মধ্যে মাদারীপুরের চিকিৎসা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন ও সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’ আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সেবা খাতে নিয়োজিত সকল উর্ধতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি দেয়া জন্য আকুল আবেদন করছি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা রাকিব হাসান সেলিম বলেন, মাদারীপুরের স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা। প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষের এ জেলায় সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল নেই। নামে ১০০ শয্যা হলেও সেই ৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চালানো হচ্ছে হাসপাতালটি। কয়েক বছর আগে ২৫০ শয্যার নতুন হাসপাতালের ভবন নির্মিত হলেও জনবল সংকটের কারণে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল এখনও চালু করা হয়নি।

ইঞ্জিনিয়ার মহব্বত হোসাইন বলেন,  অবিলম্বে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু ও মাদারীপুরে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় জেলার সর্বস্তরের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর উন্নায়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। অন্য দিকে মানসম্মত কোনো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল না থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য লোক বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদারীপুরের ১৫ থেকে ২০ লাখ জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে, তাদের  জন্য মাদারীপুরে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

আরিফ  হোসেন বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য এখানকার জনগনের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই জনগনের চিকিৎসার জন্য অনতিবিলম্বে মাদারীপুরে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু ,  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ,  পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের দাবী জানাচ্ছি। 

সাংবাদিক মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘মাদারীপুরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা খুবই জরুরি। মাদারীপুরের মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন চাই আমরা। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

জেলার সকল হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকটের সমাধান চেয়ে মিসেস রেকসনা বলেন, ‘মাদারীপুরে করোনার চিকিৎসার জন্য পি সি আর ল্যাব এবং আইসিইউ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দালালদের মাধ্যমে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী পাঠানো বন্ধ করতে হবে। কালকিনি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন পুনর্নির্মাণ ও জনবল নিয়োগ দিয়ে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।’

এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও তা চালু করা হয়নি। অথচ, ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালে রোগীদের চাপ সামলাতে ডাক্তারদের হিমশিম খেতে হয়। তাই, অবিলম্বে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করে সরকারিভাবে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে হবে। জন্য অনতিবিলম্বে মাদারীপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের দাবী জানান তারা।

এবিএস