লালমনিরহাটের বুড়িমারী উপজেলায় কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগ তুলে শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট আমলি আদালত-৩ এর বিচারক সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালত-৩ এর বিচারক বেগম ফেরদৌসী বেগম মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে আলোচিত ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়। আপাতত হত্যা মামলায় গ্রেফতার পাঁচ আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বুড়িমারী এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে আশরাফুল আলম (২২) ও বায়েজিদ (২৪), ইউসুব আলী ওরফে অলি হোসেনের ছেলে রফিক (২০), আবুল হাসেমের ছেলে মাসুম আলী (৩৫) এবং সামছিজুল হকের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৫)।

কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে শহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার দায়ে নিহতের চাচাত ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একটি মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় গ্রেফতার পাঁচ আসামিকেই পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আমলি আদালত ৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম। মঙ্গলবার শুনানি শেষে পাঁচ আসামির প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালত ৩ এর বিচারক ফেরদৌসী বেগম।

এ ঘটনায় দ্বিতীয় ধাপে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খাদেম জোবেদ আলীসহ (৬১) আরো পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় আরো ছয় জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ নিয়ে এই তিন মামলায় মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক।

এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার দায়ে পাটগ্রাম থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী বাদী হয়ে এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের দায়ে অপর একটি মামলা দায়ের করেন বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত।

বহুল আলোচিত তিনটি মামলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) পর্যন্ত দুই দফায় মসজিদের খাদেম জোবেদ আলীসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

নিহত যুবক শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। গত বছর চাকরিচ্যুত হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

রোববার (০১ নভেম্বর) ঘটনাস্থল তদন্ত করে মসজিদের কোরআন অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত দলের পরিচালক আল মাহমুদ ফাউজুল কবির। এটা স্রেফ একটি ‘গুজব’ বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও কোরআন অবমাননার সত্যতা পাননি বলেও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সাংবাদিকদের জানান।

নুরনবী/এমবি