ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গেছে এমন যদি কারো মনে হয় তাহলে তদন্ত করে দেখতে পারেন। কিন্তু ঢালাওভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করা ঠিক না।’

সম্প্রতি পুলিশকে নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের সমালোচনার জবাবে তিনি সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বাহাসে যাওয়া যৌক্তিক না। বাহাস করা নোংরামী। এটা করা ঠিক হবে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং পুলিশ দুটোই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। দুটি প্রতিষ্ঠানই মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে। আমাদের সবারই সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা উচিৎ।’

বাহাস করা নোংরামী উল্লেখ করেও কমিশনার তার পরবর্তী বক্তব্যেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আইন এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন। কোনো আইনের ধারা উপধারা বলে তাদের পাজেল করা যাবেনা।

এখন মানুষ শিক্ষিত। এমনকি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওয়েব সাইটেও আইন দেওয়া আছে। সেখান থেকেও মানুষ দেখতে পারে। এখানে গণমাধ্যম অনেক শক্তিশালী। আগের দিন নেই।’

হিযবুত তাহরির ২০১০ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়েছে। সেই সংঘঠনের সক্রিয় সদস্য নাফিস সালাম ওরফে উদয়। সে এর আগেও একবার গ্রেফতার হয়েছিল। উদয় ওই জঙ্গি সংগঠনটির আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করে উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, ‘আমরা জঙ্গিকে জঙ্গি বলব। আর কেউ না বললে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। তবে পুলিশকে নিয়ে কথা বলতে হলে তদন্ত করে বলা উচিৎ।’

বিএনপি ও জামায়াতের হরতাল কর্মসূচিকে ব্যঙ্গ করে হেঁসে হেঁসে কমিশনার বলেন, ‘রাস্তায় কখনো কখনো দুই, পাঁচ এবং দশজনকে দেখা যায়। তবে হরতাল নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে গণতন্ত্রের নামে কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে দেওয়া হবে না। গুটি কয়েক লোক আমার নগরীর দুইকোটি লোককে জিম্মি করে রাখবে তা করতে দেওয়া হবে না।’

এর আগে গত ৬ নভেম্বর রাজধানীর শ্যামলীতে হরতাল সমর্থনে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণকারীদের ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করায় তিন নাগরিককে পুরস্কৃত করে ডিএমপি।

তারা হলেন, মনির হোসেন, শহিদুল আলম খান কাজল ও হাসান মিয়া। এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা ও একটি প্রশংসাপত্র দেওয়া হয় ডিএমপির পক্ষ থেকে।

জেইউ/এসএইচ/জেআই