আজ যশোর জেলা ছাত্রলীগের ১৭ তম সম্মেলন। ছাত্রলীগের সম্মেলনে যেন খুনোখুনি বা সহিংসতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ। আজ অনুষ্ঠেয় সম্মেলন উপলক্ষে শহরে যান চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন এদিন শহরে ঢুকতে পারবে না।

ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যশোর জেলা শাখার ১৭তম সম্মেলন আজ সকাল দশটায় শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের সম্মেলনের ভেন্যু শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ। আর দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে ঈদগাহ-সংলগ্ন বাদশাহ ফয়সাল ইসলামী ইনসটিটিউটের হলরুমে। জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনস্থল এবং আশেপাশে পুলিশি বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।

রোববার সকাল থেকেই ঈদগাহের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান করছে। মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে পুলিশ অবস্থান করতে দেখা যায়।

আজ সম্মেলন চলাকালে শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। থাকবে সাদা পোশাকে পুলিশের একাধিক টিম। সম্মেলনস্থল মনিটর করা হবে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে। এদিকে, সম্মেলন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে শহরের মধ্যে রোববার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ছোট যানবাহন যেমন ইজিবাইক, অটো রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন, করিমন, আলমসাধু চলাচল নিষিদ্ধ করেছে জেলা পুলিশ। এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা পুলিশ রোববার বিকেল থেকে শহরে মাইকে প্রচার করে। যান চলাচল সীমিত করার এই ব্যবস্থা ১১ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে ঘোষণায় বলা হয়। এছাড়া পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সদর আসনের সংসদ সদস্যকে চিঠি দিয়ে শান্তি বজায় রাখতে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক তাহেরুল ইসলাম জানান, ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের শেষ সম্মেলনে সৃষ্ট সহিংসতার কথা মাথায় রেখে পুলিশ এবার ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। সন্দেহভাজন যে কাউকে তল্লাশি করবে পুলিশ। সাদা পোশাকের একাধিক টিম থাকবে সম্মেলনস্থলের আশপাশ ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে। পোশাকধারী পুলিশের নজরদারিতে থাকবে সম্মেলনস্থল। সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন পয়েন্টে। যাতে কেউ অপরাধ করলেও সহজে শনাক্ত করা যায়।

কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সম্মেলন উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরা ও ভিডিও ক্যামেরায় চলমান ছবি ধারণ করা হবে। শহরের মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চলবে। এছাড়াও নিয়মিত টহল চালু আছে।’

সাধারণ মানুষের অসন্তোষ
ছোট যানবাহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এর চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। তারা বলছেন, পুলিশের এই সিদ্ধান্ত তাদের ভোগান্তিতে ফেলবে। রোববার রাত নয়টার পর শহর প্রায় ইজিবাইকশূন্য হয়ে যায়। রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহরের চৌরাস্তায় শহিদুল ইসলাম নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, ‘ছাত্রলীগের সম্মেলন হবে, তাতে আমাদের কী? আমরা কেন গাড়ি চালাতে পারবো না? আমরা কি ছাত্রলীগের সম্মেলনে মারামারি করতি যাচ্ছি?’ দড়াটানা পার হয়ে হেঁটে ঘোপ এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন মধ্যবয়সী এক ব্যবসায়ী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করে ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘পুলিশ যদি মনে করে সম্মেলনে হাঙ্গামা হতে পারে, তো সম্মেলন বন্ধ করে দিক না! সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন?’ এই বিষয়ে পুলিশ ইনসপেক্টর তাহেরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তার জবাব, ‘শহরবাসীর একটু সমস্যা হবে। তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুলিশ সুপার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। #

তারেক/জারিফ