বানিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম। শুক্রবার বিকেলের আকাশটা দেখে যে কারোই মনে হতে পারে, এখনই শুরু হবে কাল বৈশাখী ঝড়। বাসায় ফেরার আগেই ঝমঝমিয়ে নামবে সস্তির বৃষ্টি। কিন্তু না তা হয়নি। সকালের গোমড়া মুখো আকাশ, বিকেলের দখিনা হাওয়া জনজীবনে কিছুটা সস্তি আনলেও বৃষ্টির দেখা নেই!
মেঘ দেখে বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা আশা দেখালেও দিনশেষে সেই আশা মরীচিকায় পরিণত হয়। রাতের শেষ দিকে তাপমাত্রা একটু কমলেও দিনের শুরু থেকে বাড়তে থাকে উত্তাপ। প্রতিদিনেই খরতাপে পুড়ে শুরু হয় বন্দরনগরীর কর্মব্যস্ত জীবন।
এ অবস্থা শুধু যে আজ তা নয়। গত কয়েকদিন ধরেই সমুদ্র শহর চট্টগ্রামের আকাশে কখনো হালকা আবার কখনো ভারি মেঘের খেলা চলছে। গতকাল (শুক্রবার) রাতের হাল্কা দু'এক ফোঁটা বৃষ্টি প্রত্যাশীদের মনের আক্ষেপটাই বাড়িয়েছে।
এতো গেল নাগরিক মনের কথা। বৃষ্টির খবর দিতে পারছেনা খোদ আবহাওয়া অধিদপ্তর! বৈশাখের শুরুতে বেশ কয়েকবার বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানান দিয়ে, প্রকৃতির আপন খেয়ালের কাছে দমে গেছেন তাঁরাও। বন্দরনগরীতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুব কম দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক। দখিনা বাতাসে গড়মের মাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে, বিপরীত চিত্র দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শহর সিলেটে। ঝুম বৃষ্টি চলছে সেখানে। এছাড়াও একটু আধটু বৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহ রংপুর এলাকায়। টাঙ্গাইল ও দিনাজপুর অঞ্চলসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে বর্তমানে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ব ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ব ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ব ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শনিবারও এ তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস সূত্র।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘আকাশে যে মেঘের আস্তরণ তা হাল্কা মেঘ। বৃষ্টির জন্য যে গভীরতা ও তাপমাত্রা প্রয়োজন তা নেই, তাই বৃষ্টি পেতে আরো সময় লাগবে।’
কবে নাগাত ঝড়বে সস্তির বৃষ্টি ? এমন প্রশ্নের জবাবে একটু হেসে আবহাওয়াবিদ শাহিনুল জানালেন, ‘মৌসুমি বায়ু প্রবাহ এখনো শুরু হয়নি। আপনাকে বৃষ্টির পুরোপুরি আবহ পেতে জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যদিও এই সময়ে কাল বৈশাখী ঝড়ের সাথে যে বৃষ্টির সম্ভাবনা সবসময় থাকে, এবার তা হচ্ছে না। আকাশে মেঘের এই আসা-যাওয়া আরো কয়েক দিন থাকবে।’
এইচ ই





