ফেরি স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে ৮ বছর আগে বন্ধ করে দেয়া পাবনার বেড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নগরবাড়ী ফেরিঘাট আদৌ চালু হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এর ফলে ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রীর বার বার আশ্বাসের পরেও অর্ধশতাব্দী কালের পুরনো এ ফেরিঘাট চালু না হওয়ায় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, ১৯৬৪ সালে নগরবাড়ী-আরিচা রুটে প্রথম ফেরি চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকে বাণিজ্যিকভাবে নগরবাড়ী এলাকা জেলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারপর ২০০৭ সালের মাঝামাঝি এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০৮ সালের ২ মে আবার এ নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়।

ওইদিন কে-টাইপের ‘কস্তরি’ নামের একটি ফেরি দিয়ে নগরবাড়ী থেকে যানবাহন পারাপার করা হয়। কিন্তু এর পরের দিন ফেরিটি বিকল হয়ে পড়লে মেরামতের জন্য পাটুরিয়া নৌ-কারখানায় পাঠানো হয়। তারপর থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খোন্দকার নগরবাড়ী ঘাট এলাকা পরিদর্শনকালে জনগণের দাবির মুখে পুনরায় ঘাটটি চালুর আশ্বাস দেন।

ওই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান নগরবাড়ি ঘাটে এক কর্মসূচিতে এসে আশ্বাস দেন, খুব দ্রুত নগরবাড়ি ঘাট চালু করা হবে। এরপর ২০১৪ সালে তিনি আবারো পাবনা এসে একই আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপরও ফলাফল শূন্য।

নগরবাড়ীর ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্র ও নদীবন্দরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে ফেরি সার্ভিস চালু করা দরকার। বিআইডব্লিউটিএ আরিচা’র ম্যানেজার আশরাফ হোসেন জানান, কাজিরহাট-আরিচা রুটে ফেরি চালুর ব্যাপারে তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

রাকিবুল/ এমবিএইচ