অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফলাফলে যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসঙ্গতি না থাকে, সে জন্য তা বারবার যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে শিক্ষা পদক, গোল্ডকাপ ফুটবল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ অধিদপ্তরের একাধিক রুটিন কাজের ব্যস্ততার কারণে ফল তৈরিতে কিছুটা সময় লেগেছে। এখন তা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ফল প্রকাশ করা হতে পারে।

তবে শনিবার রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার (সাধারণ প্রশাসন) মো. আব্দুর রেজ্জাক সিদ্দিকী আমার দেশকে বলেন, ফলাফল প্রস্তুত করছে অন্য একটি বিভাগ; তারা প্রস্তুত করে দেওয়ার পর তা প্রকাশে অনুমোদনের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে পেশ করবো। আশা করি অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করতে পারব।

এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এস এম সিরাজুদ্দোহা আমার দেশকে বলেন, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বৃত্তির সংখ্যাও অনেক বেশি হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাই করতে বাড়তি সময় লাগছে। এছাড়া আইনি জটিলতার কারণে এবারের পরীক্ষা কয়েক দফা পিছিয়ে গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইপিইএমআইএস সফটওয়্যারে নির্ভুল ফল আপলোড করার জন্য দিনরাত কাজ করছে।

ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তা জানতে পারবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টাল (আইপিইএমআইএস) ছাড়াও মোবাইল ফোনের খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া সারা দেশে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সূচিতে পরীক্ষা নেয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল।

এবার সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। তবে এবার সরকারি ও বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয়ের জন্য কোটা ভাগ করা হয়েছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বাকি ২০ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা থাকবে সমান (৫০ শতাংশ করে)।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’–এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা করে পাবে। উভয় গ্রেডের শিক্ষার্থীরাই প্রতিবছর এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা পাবে।

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী তিন বছর শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা ভোগ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এই বৃত্তির টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

এমএম`