লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় যৌতুক না পেয়ে রুপালী বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধুকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছে স্বামী ও শ্বশুর।

শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে স্থানীয়রা নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। আহত রুপালী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া আবলার বাজার এলাকার মানিক মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, মহিষখোচা আবলার বাজার এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে মানিক মিয়া (৩০) প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে চার বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি গ্রামের মৃত জসির উদ্দিনের মেয়ে রুপালীকে। বিয়ের পর থেকে মাঝে মধ্যেই যৌতুকের টাকার জন্য রুপালীকে চাপ দিতেন মানিক ও তার পরিবার। সব সময় মেয়ে জামাইয়ের চাহিদা মেটাতে পারতেন না রুপালীর বিধবা মা ফাতেমা বেগম।

এরই মধ্যে রুপালী-মানিক দম্পতির একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। একপর্যায়ে মানিক ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজে গিয়ে স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে তৃতীয় বিয়ে করে ঢাকায় থেকে যান। এর পর থেকে মানিকের নির্দেশে তার বাবা মা ভাই ভাবি মিলে রুপালীকে বাড়ি ছাড়া করতে কারণে অকারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে।

শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে মানিক ঢাকার তৃতীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে রুপালীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। রুপালী সেই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মানিক তার বাবা-মা ও ভাই মিলে লাঠি ও দা দিয়ে বেধম মারধর ও কুপিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বাইরে ফেলে দেন। এতে রুপালীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় ও বাম হাতে প্রচন্ড আঘাত পান।

পরে স্থানীয়রা আহত রুপালীকে উদ্ধার করে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় রুপালী বাদী হয়ে স্বামী মানিক মিয়াসহ ওই পরিবারের পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

রুপালী বেগম জানান, ৫০ হাজার টাকা তার মায়ের কাছ থেকে এনে না দেয়ায় স্বামী মানিকসহ পরিবারের সবাই মিলে মারধর করে বাচ্চাটিকে আটকে রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এক বছর ধরে এমন অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করছেন তিনি। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক আব্দুস সালাম শেখ জানান, রুপালীর শরীরে মারধর এবং অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নুরনবী সরকার/এসএম