দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলীতে শরীয়তপুরের দুই ব্যবসায়ীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুই বাংলাদেশিসহ আরও তিনজন।

কেপটাউন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মাউসবেরী এলাকায় গত রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের হত্যা করা হয়।

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহতরা হলেন- শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষাড় ইউনিয়নের কাইচকুড়ি গ্রামের মৃত শহর আলী মাঝির ছেলে উজ্জ্বল মাঝি (৩১) ও নড়িয়া উপজেলার কাপাশপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম মোল্যার ছেলে আলম মোল্যা (৩৫)। 

রোববার বাংলাদেশি মালিকানাধীন ওই দোকানে পাঁচ বাংলাদেশিসহ ছয়জন অবস্থান করছিলেন। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে আলম মোল্লা ও উজ্জ্বল মাঝি এবং অজ্ঞাত পরিচয় বিদেশি মারা যান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও তিনজন।

স্থানীয়রা জানান, সন্ত্রাসীরা দোকানের টাকা-পয়সা এবং মালামাল কোনো কিছু নিয়ে যায়নি। অনেকের ধারণা, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজ্জ্বল মাঝি ১১ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকেন। সেখানে কেপ টাউনে একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন। উজ্জ্বল পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট। ১১ বছরের মধ্যে বৈধ কাগজ না থাকায় তিনি বাড়ি আসতে পারেননি।

নিহত আলম মোল্যার বোন পলি আক্তার বলেন, ‘আমার একমাত্র ভাই আলম মোল্যা দেড় বছর আগে আমাদের একটু জমি ছিল, তা বিক্রি করে বিদেশে গেছেন। আমার ভাইকে সন্ত্রাসীরা বাসায় গিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। এখন আমাদের উপায় কী? এ সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি। এখন কীভাবে এরা বেঁচে থাকবে? কে করবেন তাদের দেখাশোনা? সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমার ভাইয়ের লাশটা যেন দেশের মাটিতে দাফন করতে পারি।’

নিহতদের লাশ কেপ টাউন শহরের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের উভয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আফ্রিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা নিহতদের পরিবারকে জানিয়েছেন।

মাহফুজ