ঢাকার জননিরাপত্তা আদালতের সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধে চোরাচালানী ও মাদক মামলার আসামি খালাসেরবিনিময়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানেনেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ মঙ্গলবার দুদকের এক সভায় সাবেক বিচারক ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধেউপ-পরিচালক যতন কুমার রায়কে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৬ জুন অবসরে যান বিচারক ফারুক আহম্মেদ। এর আগে ওই মাসেই কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চিহ্নিত আসামিদের খালাস দিয়েছে।ফলে আইন মন্ত্রণালয় এ ধরনের অভিযোগ দুদকে সরবরাহ করেছেঅনুসন্ধান করে আইনগত পদক্ষেপ নিতে।
জানা যায়, অবসরে যাওয়ার আগে বিচারক ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠার পর বিষয়টি প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এসকে সিনহা তদন্ত করেন করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তার ওই প্রতিবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ রয়েছে। এ বিচারককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়া হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব দেশের বিচার বিভাগে একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করবে।
বিচারপতি এসকে সিনহার প্রতিবেদনে ওই বিচারক ফারুক আহম্মেদের নিষ্পত্তি করা ২৮ মামলাররেকর্ডপত্র পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। ঢাকার জননিরাপত্তা আদালতের বিচারক (দায়রা জজ) ফারুক আহম্মেদ অবসর গ্রহণের আগের মাসে ১ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ২৪ মামলাতড়িঘড়ি করে সাক্ষীদের বক্তব্য পর রায় প্রদান করেন। ৩৪২ ধারার পরীক্ষা ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিদিনই কোনো নাকোনো মামলার রায় প্রদান করেছেন।
তার রায়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১ জুন একটি, ২ জুন একটি, ৪ জুন একটি, ৫ জুন ১টি , ৮ ও ৯ জুন ২টি, ১০ জুন ২টি, ২৫ জুন ৩টি এবং ২৬ জুন ২টি মামলার রায় প্রদান করেছেন। একজন বিচারকের পক্ষে এধরনের রায় প্রদনের পেছনে আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির বিষয় নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠেছে।
বিচারপতি এসকে সিনহার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিচারক ফারুক আহম্মেদ মামলা নম্বর ১০৯/১২ এর গত ১৮জুন৩৪২ ধারায় আসামিদের সম্পর্কে বক্তব্য গ্রহণ এবং উদ্ধার করা মালামাল পরীক্ষার আদেশ দেন।এর পর ২৫ জুন ওই মামলার রায় প্রদান করেন।
বিচারক ফারুক আহম্মেদ ৩২৭/১১ মামলার আসামি পলাতক থাকা সত্ত্বেও আসামি পক্ষের একজনকে পরীক্ষা করার সুযোগ দিয়েছেন, যা বেআইনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বিচারক ফারুক আহম্মেদের দেয়া প্রতিটি মামলার রায় পর্যবেক্ষণ করেছেন। এতে আসামিগণকেচোরাচালানের মাদকদ্রব্য হাতেনাতে জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলা খুবই চাঞ্চল্যকর। একটি মামলা ৫ কেজি ৮০০ গ্রাম হেরোইন হাতেনাতে ধরা হয়। আরেকটি মামলায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকারবৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করা হয়। এসব মামলায় কিভাবে বিচারক ফারুক আহম্মেদ আসামিদের খালাস দিয়েছেন। অধিকন্তু প্রায় সব মামলায় আসামিরা পলাতক ছিল, যারা বাদী পক্ষের সাক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জ করেনি।
ঢাকা, একে, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





