প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক কিছু বলার থাকলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে অনেক কিছু হজম করে এগিয়ে যাচ্ছি।
দেশের উচ্চ আদালত মার্শাল ল’ দিয়ে জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।
এই রায়ের পর এ দু’জনকে (জিয়া ও এরশাদ) আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা যায় না। এরফলে এই দু’জনের কাউকেই বৈধ রাষ্ট্রপতি বলা যায় না।’
আজ রবিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেই মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়া ও এরশাদের ক্ষমতা দখলে আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক মিলিটারি ডিক্টেটর থেকে আরেক মিলিটারি ডিক্টেটর আসুক, সেটা কখনোই আমাদের কাম্য ছিল না। এর বিরুদ্ধে আমরাই প্রতিবাদ করেছি। আমরা চেয়েছি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।’
এরশাদের ক্ষমতাগ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জেনারেল এরশাদ যে ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, সেই ক্ষমতা দখলের সুযোগটাই কিন্তু খালেদা জিয়াই করে দিয়েছিলেন। এই কারণেই তিনি খালেদা জিয়াকে শুধু দুটি বাড়িই নয়, নগদ ১০ লাখ টাকাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন।
যে কারণে জিয়াহত্যার ব্যাপারে যে মামলা হয়েছিল, সেই মামলা বিএনপি চালায়নি। তবে, বহু বছর পরে ১৯৯১ সালে বা তারপর খালেদা জিয়া জেনারেল এরশাদকে তার স্বামী হত্যার জন্য দায়ী করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের নেতা যিনি ছিলেন, সেই জেনারেল এরশাদ এক সময় যখন পাকিস্তান থেকে ফিরে আসেন, তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তাঁকে সেনাবাহিনীতে যোগদান করান। একসময় তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান হন। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন বিচারপতি সাত্তার।
তাকে কিন্তু সেনাপ্রধান হিসেবে সাত্তারকে প্রার্থী করেছিলেন জেনারেল এরশাদ। একটি বিদেশী পত্রিকায় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন বিচারপতি সাত্তার সাহেব তার প্রার্থী! সেখানেই আমরা আপত্তি তুলেছিলাম। বিচারপতি সাত্তার সাহেবকে বলেছিলাম, এ ধরণের প্রার্থী হওয়া উচিত না। বরং নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে হতে দেন, গণতান্ত্রিক ধারা যেন বজায় থাকে। কিন্তু তারা তা করেনি।
রওশন এরশাদের নেতৃত্বে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে যদি জনগণের অংশগ্রহণ না থাকতো, তাহলে আমরা ৫ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারতাম না।’
শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া কখনোই গণতান্ত্রিক ধারা মজবুত হয় না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে শুরু করে সব দল অংশ নেয়। কিন্তু অংশ নিয়েও বিএনপি এই সংসদকে অবৈধ বলে। আবার তারা সংসদে ফিরেও এসেছেন। এজন্য তাদের সাধুবাদ জানাই। তাদের অংশগ্রহণে বিরোধী দল সংখ্যায় বেড়েছে।
গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা (বিএনপির এমপি) সংসদে বসেন, আবার বলেন, নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়নি। ভোট না দিলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সরকারকে আমরা যেভাবে উৎখাত করেছিলাম, তারাও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেভাবে সরকারকে উৎখাত করতে পারতো। কিন্তু জনমর্থন নেই বলে তারা তা পারছে না।’
বঙ্গবন্ধুর শুরু করা সাভার স্মৃতি সৌধ ও শহীদ মিনারের কাজ সম্পন্ন করাসহ এরশাদের বেশ কিছু কাজের প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এরশাদের মধ্যে অমায়িক আচরণ ছিল।’ মানুষের প্রতি তার দরদ ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এএস





