নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চেয়াম্যান ঘাট-নলচিরাঘাট ও চেয়ারম্যান ঘাট-চরচেংগা ঘাট রুটে চলাচলকারী সি ট্রাক দুটি গত দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে নোয়াখালীর সদর উপজেলার সঙ্গে হাতিয়ার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সি ট্রাক বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী চেয়াম্যান ঘাট-নলচিরা ঘাট রুট দিয়ে মাইজদী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় যাতায়াত করতে না পেরে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে।
এদিকে, সি ট্রাক অচল হয়ে পড়ায় ডাক সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ডাক বিভাগ। ফলে চিঠিপত্র ও স্ট্যাম্প আসা বন্ধ রয়েছে। এতে করে রিভিনিউ স্ট্যাম্পও আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন ভাতা গ্রহণের সময় ও বিভিন্ন কাজে রিভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার করতে পারছেন না।
অন্যদিকে, মার্চ মাস থেকে নদীপথে ট্রলারযোগে যাতায়াতের উপর আবহাওয়া অফিস থেকে রেড এলার্ট জারি থাকলেও সি ট্রাক বন্ধ থাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসী জানান, গত দুই মাস ধরে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাট রুটে ও চেয়ারম্যান ঘাট-চরচেংগা ঘাট রুটে চলাচলকারী সি ট্রাক দুটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। টেলিফোনে ও চিঠির মাধ্যমে বিয়টি বিআইডব্লিওটিএর চেয়ারম্যান এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এ ব্যপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার যাত্রী ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে মাইজদী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় যাতায়াত করছে।
সি ট্রাকের এজেন্ট অ্যাডভোকেট সাইফ উদ্দিন জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ও ইঞ্জিন নষ্ট থাকায় সি ট্রাক দুটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি বিআইডব্লিওটিএর চেয়ারম্যান ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
চেয়ারম্যানঘাটে আটকা পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা, হাতিয়ার জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটেআদালতের জারিকারক মোশারেফ হোসেন, আফাজিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল হক, রেড ক্রিসেন্টের কর্মচারী মোমিন উল্যাহ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হোসেন আহাম্মেদ বাংলামেইলকে জানান, সি ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় কয়েকদিন থেকে হাতিয়া যেতে না পেরে চেয়ারম্যানঘাটে আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
সাধারণ যাত্রীরা জানান, জরুরী কাজে যদি কেউ হাতিয়ার বাইরে যেতে চায় তাহলে তাকে একটি ট্রলার রির্জাভ করে নিতে হবে। আর এর জন্য তাকে পরিশোধ করতে হবে কমপক্ষে ৩-৫ হাজার টাকা। হাতিয়ার মত গরীব এলাকার লোকজনদের এতো টাকা ভাড়া দিয়ে নদী পার হওয়ার মতো সক্ষমতা নেই বললেই চলে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাছনাত মো. মঈন উদ্দিন দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, সি ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় নদী পার হতে এলাকাবাসীর অসুবিধা হচ্ছে।
সি ট্রাক ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজল জানান, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়ার চরচেংগা ঘাটে চলাচলকারী শহীদ আ. জব্বার সি ট্রাকটি গত ২২ জানুয়ারি অচল হয়ে পড়ে। বিআইডব্লিউটিসি নারায়ণগঞ্জে সি ট্রাকটি মেরামতের জন্য নিয়ে যায়। কিন্তু এটি ফিরে না আসায় ঢাকায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তারা বরিশাল থেকে শেখ ফজলুল হক মনি সি ট্রাক হাতিয়া পাঠাবে বলে জানায়। তবে বরিশাল থেকে ১০ কিলোমিটার ছেড়ে আসার পর সি ট্রাকটি ফের অচল হয়ে পড়ে। পরে সেটি আবার বরিশালে ফিরে যায়।
এদিকে শহীদ জব্বার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়ার নলচিয়া ঘাটে যাতায়াতকারী শহীদ সালাম সি ট্রাক দিয়ে এলাকাবাসী যাতায়াত করতো। কিন্তু কয়েকদিন পর সেটিও অচল হয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ তা মেরামতের জন্য ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে সি ট্রাক ইজারাদারদের মাসের পর মাস লোকসান গুনতে হচ্ছে।
জেআই





