নারয়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার মনোহরদী গ্রামে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করায় ধর্ষকের লোকজন ধর্ষিতা ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে।

এসময় তারা ২টি গরুসহ পাঁচটি বাড়ির মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ধর্ষক ও তার সহযোগিদের হামলার ভয়ে পাঁচ পরিবারের শিশু নারীসহ অন্তত ২৫ জন এলাকাছাড়া। সন্ত্রাসীরা লুটের গরু দিয়ে ভুরিভোজ করেছে। পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতার না করলেও গ্রেফতার করেছে ধর্ষিতার বাবাকে।

ধর্ষিতার নানি জানান, তার কলেজে পড়ুয়া নাতনিকে উপজেলার ব্রা‏হ্মন্দী ইউনিয়নের মনোহরদী ঋষেরচর গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে রুবেল গত ১০ অক্টোবর রাতে তাদের ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনা বাড়ির লোকজন জানার পর মানসম্মানের দিকে তাকিয়ে তারা ধর্ষকের সঙ্গে তার নাতনিকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে স্থানীয় বিচার সালিশ হলেও ধর্ষকের পরিবার বিয়েতে রাজি হয়নি। পরে পার্শ্ববর্তী লস্করদী গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে ধর্ষিতার পরিবার তার বিয়ে ঠিক করে।

গত ২ নভেম্বর বিয়ের দিন ছিল। কিন্তু রুবেল ওই ছেলের প্রতিবেশিদের ধর্ষণের কথা জানিয়ে বিয়ে না করতে ছেলের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। স্থানীয় লোকজন তখন ক্ষিপ্ত হয়ে রুবেলকে ধরে গণপিটুনি দিলে সে গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়।

পরে ধর্ষিতা নিজে বাদী হয়ে গত ৩০ অক্টোবর রুবেলের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

মামলা দায়েরের পর ৩১ অক্টোবর রাতে রুবেলের ভাই সাবেক যুবলীগ নেতা পাভেল, রোমান, ফজলুল হক, সামসুল হক, রিপন খান, নিঝুম খান, সাকিল খানসহ ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধর্ষিতার বাড়ি ও তার চার মামার বাড়িতে হামলা চালায়।

তারা বাড়ি-ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ওই সময় তাদের গোয়ালে থাকা একটি কালো রংয়ের ষাড় ও একটি সাদা রংয়ের অষ্ট্রেলিয়ান গাভী লুট করে নিয়ে যায়। পরে সন্ত্রাসীরা গাভীটি জবাই করে ভুড়িভোজ করে।

ধর্ষিতার এক মামা জানান, মামলা করায় ধর্ষণকারীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে একটি মারধরের মিথ্যা মামলা দেয়।  এ মামলায় ধর্ষিতার পিতাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছে।

ধর্ষিতা জানান, থানায় মামলা করায় সেসহ তাদের ও তার চার মামার পরিবারের লোকজন এখন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। ধর্ষক গ্রেফতার এড়াতে চিকিৎসার নামে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালের বেডে শুয়ে রয়েছে বলেও ধর্ষিতা জানান।

সোমবার সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর জানান, লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। ধর্ষিতার পরিবারের লোকজনের পালিয়ে বেড়ানোর ঘটনা তদন্ত করা হবে বলে জানান। ধর্ষক রুবেলকে অচিরেই গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

জেআই