গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বর্তমানে দেশের ১২৮টি বাড়ি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ দখলে আছে।
তিনি বলেন, এর মধ্যে এফ শ্রেণীর একটি, সুপিরিয়র শ্রেণির দুটি, ই শ্রেণীর ১২টি, সংরক্ষিত ৫৩টি, ডি শ্রেণীর ৫৬টি এবং অস্থায়ী চারটি বাড়ি রয়েছে। সোমবার সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ সব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আদালতে মামলা করে এসব বাড়িতে বসবাস করছেন। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দু'জন বেসরকারি আইনজীবী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির এমপি নুরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা ১০ হাজার ৩৪৭টি। এর মধ্যে ঢাকায় আছে ৬ হাজার ৪০৬টি। যার মধ্যে বিক্রির তালিকায় আছে ৪ হাজার ৭৮২, অবৈধ বসবাসকারীদের দখলে আছে ৬৬টি এবং ৯৯৯টি বাড়ি নিয়ে মামলা চলছে।
এর বাইরে নারায়ণগঞ্জে ৬২টি, গাজীপুরে ৩টি, নরসিংদী ২টি, রাজবাড়ী ৩৬টি, রাজশাহী ২২৮টি, নাটোর ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৬টি, নওগাঁ ৩০টি, পাবনা ১২৩টি, সিরাজগঞ্জ ১৩টি, বগুড়া ২৮০টি, জয়পুরহাট ১টি, খুলনায় ১ হাজার ৪২১টি, বাগেরহাট ১টি, যশোর ৯২টি, কুষ্টিয়া ৫০৭টি, চুয়াডাঙ্গা ২৭টি, চট্টগ্রাম ৩৫৩টি, কুমিল্লা ৩টি, কক্সবাজার ১টি, সিলেট ৪টি, রংপুর ৪২টি, দিনাজপুর ৩৭৮টি, নীলফামারী ২২৩টি, কুড়িগ্রাম ১৭টি, ঠাকুরগাঁও ৯টি, লালমনিরহাট ১০৮টি, ও গাইবান্ধায় ২১টি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এসব বাড়ি কেবল মাত্র মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। অন্যদের বরাদ্দ দেয়ার কোনো বিধান নেই।
সরকারি দলের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিকল্পিত রাজধানী গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানীর আবাসিক এলাকাসমূহে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে আবাসিক বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
মোশাররফ হোসেন বলেন, গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুসারে এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় বার লাইসেন্স বাতিলকরণ ও অপসারণ এবং নতুন কোনো লাইসেন্স প্রদান না করার জন্য ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রশ্নোত্তরের আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
এআই





