নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামের প্রায় শতভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ রয়েছে। তারপরও সরকারি খরচে এ গ্রামের ১৭টি বাড়িতে সোলার প্যানেল দেয়া হয়েছে । অথচ পাশ্ববর্তী বিদ্যুৎ বিহীন গ্রামে সোলার প্যানেল দেয়া হয়নি।

এতো সোলার প্যানেল এক গ্রামে দেয়ার কারণ খুজতে গিয়ে জানা গেছে, ওই গ্রামেই জেলা ওর্য়াকার্স পার্টির সভাপতি ও নড়াইল-২ আসনের সাংসদ শেখ হাফিজুর রহমানের শ্বশুরবাড়ি। তাই বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও সরকারি টিআর প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকায় এ সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে পাশের গ্রাম পার বলরামপুর গ্রামে কোন বিদ্যুৎ নেই। সে গ্রামে কাউকেই সোলার প্যানেল দেয়া হয়নি।

সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজটি করেছেন এমপি’র শ্যালক আবু হাসান মোহাম্মদ। এমপি’র শ্যালক জড়িত থাকায় সংশ্লিষ্টরা তেমন তদারকি করেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ৮৫ ওয়াটের সোলার প্যানেলের প্রকল্পে দেয়া হয়েছে ৪০ ওয়াটের সরঞ্জাম ও বাতি।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়,এমপি’র শ্বশুর বাড়ি, চাচা শুশুর টিপু সুলতান, ইমদাদুল হক, চাচাতো শ্যালক মিরাজ মোল্যা,শফি উদ্দিন মোল্যা,মামা শ্বশুর সেকেন্দার সহ কমপক্ষে ১৪ জন নিকট আত্মিয়ের বাড়িতে সোলার প্যানেল দেয়া হয়েছে। এমপি’র বরাদ্দের একটি প্রকল্পে ৩৬টি সোলার প্যানেলের ২৮টি দেয়া হয়েছে শ্বশুর বাড়ির ইউনিয়ন মাইজপাড়ায়। তারমধ্যে খোদ শ্বশুর বাড়ির গ্রাম চারিখাদায় দেয়া হয়েছে ১৭টি।

মাইজপাড়া ইউনিয়নের শলুয়া গ্রামের ফরিদ ও কাঠালবাড়িয়া গ্রামের মিলন মল্লিক জানান,বরাদ্দকৃত ২৯ হাজার ২৩০ টাকার চেয়ে অর্ধেক দামের সোলার প্যানেল দেয়ায় তারা তা গ্রহন করেননি। এ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের আবু কালাম, চারিখাদা গ্রামের নুরু মিয়া ও হোসেনপুরের রিজাউল জানান, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য কারণে তাদের সোলার প্যানেল দেয়া হয়নি।

শলুয়া গ্রামের ওর্য়াকার্স পার্টির নেতা ফরিদ জানান, এমপি’র শ্যালক হাসান কতিপয় বখাটে ছেলেদের নিয়ে নিন্মমানের কিছু সোলার প্যানেল দিয়েছে। যার কোনটির মূল্য ১০ হাজার টাকা হবে না।

কাঠালবাড়িয়া গ্রামের মিলন বলেন,এমপি বরাদ্দ নেন। আর তার স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমীন ও শ্যালক হাসান লিয়াজু করে টাকা পয়সা তুলে খেয়ে ফেলে। সোলার প্যানেল সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান ভেনাস পাওয়ার লিঃ এর খুলনা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক আবুল বাশার জানান, ৪০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল ১৫ হাজার টাকায়, ৮০ ওয়াটের ২৫ হাজার টাকায়,১০০ ওয়াটের ৩০ হাজহার টাকায় সরবরাহ করা হয়।

এ ব্যাপারে এমপি’র শ্যালক আবু হাসান এর সাথে যোগযোগ করলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও নড়াইল-২ আসনের সাংসদ শেখ হাফিজুর রহমান জানান, এমপি’র আত্মি- স্বজন গরিব থাকলে তারা সরকারি সুযোগ পেতে পারে।

জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস জানান, যে ভাবে সোলার বিতরন করা হয়েছে তা সরকারের নীতি পরিপন্থী।

রিন্টু/জারিফ