বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে শাহ নেয়াজ রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে ‘নয়ন বন্ড’ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে।
আজ (২ জুলাই) মঙ্গলবার ভোররাতে বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
নয়ন বন্ডের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।
নিহত নয়ন বন্ড বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলেজ রোড এলাকার মৃত মো. আবুবক্কর সিদ্দিকের ছেলে এবং রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করতে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের পুরাকাটা নামক এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের ওপর গুলি চালায় নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে নয়ন বন্ড বাহিনী পিছু হাঁটলে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি, ২টি শর্টগানের গুলির খোসা এবং ৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এর আগে সোমবার (০১ জুলাই) সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি অলি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা অভিযুক্ত তানভীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া, নাজমুল হাসান, সাগর ও সাইমুন নামে অপর তিনজন বর্তমানে পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন।
বরগুনা শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে তার স্বামী মো. শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করে। ২৫ জুন রিফাত শরীফকে হত্যার পরদিন (২৭ জুন) ১২ জন আসামির নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন তাঁর বাবা মো. আ. হালিম দুলাল শরীফ। মামলায় পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন (২৫)।
বাকি আসামিরা হলেন- মো. রিফাত ফরাজী (২৩), মো. রিশান ফরাজী (২০), চন্দন (২১), মো. মুসা, মো. রাব্বি আকন (১৯), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রায়হান (১৯), মো. হাসান (১৯), রিফাত (২০), অলি (২২) ও টিকটক হৃদয় (২১)।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫)। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা।
গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এনিয়ে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এমবি





