চট্টগ্রাম মহনগরীর ২০ সড়কের ৫০ কিলোমিটারই এখন ভাঙাচোরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হচ্ছে কাপাসগোলা সড়ক। এ সড়কের পুরো অংশই খানাখন্দে ভরা।
ঈদের অনেক আগে থেকে এ সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভাঙাচোরা সবকয়টি সড়কেও। যা মেরামতের কোন উদ্যোগ নেই। গত রবিবার নগরীর সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস কল্পে গণসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক রোড শো ২০১৪ ক্যাম্পেইনে যোগদান শেষে স্বয়ং যোগাযোগমন্ত্রী চট্টগ্রামের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ভাঙাচোরা সড়ক, ময়লা অবর্জনার দুর্গন্ধ, যানবাহন চলাচলে চরম অব্যবস্থাপনাসহ নানা অনিয়মে চট্টগ্রাম বসবাসের অযোগ্য শহর বলে আখ্যা দেন এবং চট্টগ্রাম শহরের মত এত দুরাবস্থা দেশের আর কোন শহরে নেই বলে দাবী করেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা ও জেলার উপজেলা সংযোগস্থল পর্যন্ত ২০টি সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের ৫০ কিলোমিটার অংশ এখন খানাখন্দে ভরা। যার উপর দিয়ে যানবাহন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে চালকরা। অসহনীয় কষ্ট ভোগ করছে যাত্রীরা।
যানবাহন চালক ও যাত্রীরা জানান, চকবাজার থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত কাপাসাগোলা সড়কটি গত তিন বছর ধরে পড়ে আছে ভাঙাচোরা। সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে না বললেই চলে।
এছাড়া বহদ্দারহাট মুরাদপুর সড়ক, বহদ্দারহাট শাহআমানত সড়ক, এক কিলোমিটার সড়ক, আগ্রাবাদ সড়ক, ডিটি রোড, স্টেশন রোড, চাক্তাই সড়ক, অক্সিজেন সড়ক, সদরঘাট রোড, মাঝিরঘাট রোডের অবস্থা খুবই করুণ। যা সংস্কারের দায়িত্ব চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব সড়কে বড় বড় গর্তগুলো বৃষ্টির পানিতে ডোবায় পরিণত হয়েছে। যার উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় পানি ছিটকে পড়ছে পায়ে হাটা যাত্রীদের শরীরে। আর ছোট-বড় অনেক যানবাহন গর্তে আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করেছে সড়কে।
বহদ্দারহাট সড়কে যাতায়াতকারী জামশেদ হোসেন বলেন, দুরাবস্থার কারণে কাপাসগোলা সড়ক দিয়ে ভয়ে যাতায়াত করি না। অনেক সময় জরুরী কাজে বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলে কাপড় চোপড় নষ্ট করে বাসায় ফিরতে হয়।
একই কথা বলেছেন নগরীর আগ্রাবাদ আক্তারুজ্জামান শপিং মলের ব্যবসায়ী হাজী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সড়কের দুরাবস্থার কারনে প্রতিদিন একরকম নিস্তেজ হয়ে বাসায় ফিরতে হয়। ফলে ব্যবসা চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঢাকা, ৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





