যশোর-চৌগাছা সড়কের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর এলাকায় ট্রাক থাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া নসিমনের আরও এক আহত যাত্রী মারা গেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আহত খাইরুল ইসলাম (৪৮) মারা গেছেন।

মৃত খায়রুল ইসলাম যশোরের চৌগাছার ফুলসর এলাকার খিদির আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডাক্তার আখতারুজ্জামান।

এর আগে বেলা ১১ টার দিকে চৌগাছামুখী ট্রাক (ঝিনাইদহ ট-১১০০৭৩) যশোরমুখী নসিমনকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ক্রীড়া ও শরীরচর্চা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর কুবারহাটের রফিকুল ইসলামের ছেলে আবু হানিফ, চৌগাছার চান্দাপাড়ার এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে নসিমন চালক আনিছুর রহমান (২২), একই এলাকার চৌগাছার চান্দাপাড়া হাবিবুরের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪০)।

এ দুর্ঘটনায় আহত হন ৯ জন। এরমধ্যে পরে (শুক্রবার সন্ধ্যায়) মারা গেছেন খাইরুল ইসলাম। অপর আহতরা হলেন- চৌগাছার দূর্গাপুর গ্রামের জাহাতাপের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩৫), তার মেয়ে বৃষ্টি খাতুন (৮), একই এলাকার তাহাজ্জেলের স্ত্রী স্বপ্না (২৪), তার মেয়ে রত্না (৫), সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের আবু সাইদের ছেলে জাহিদ হাসান (১২), শিবনাথপুরের বিজয় বিশ্বাসের ছেলে বিকাশ বিশ্বাস (৪০), অজ্ঞাত (১৫) এবং খুলনার খালিশপুরের তাহাজ্জত আলীর মেয়ে যবিপ্রবির ছাত্রী শারমিন সুলতানা বিথি (২২)। তারা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে, যবিপ্রবির মেধাবী ছাত্র নিহত আবু হানিফ ২০১৩ সালে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্রঞ্জ পদক পান। তার মৃত্যুতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা যশোর-চৌগাছা সড়ক অবরোধ করে। এছাড়া ঘাতক ট্রাকটি আগুন ধরিয়ে দিলে এলাকাবাসী তা নেভানোর চেষ্টা করে। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। পরে যশোর শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায় এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পরপরই ট্রাক চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

এআর/জেআই