বকেয়া বেতনের দাবিতে ২ দিন ধরে বেনাপোল বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে বন্দরের ইকুইপমেন্ট শাখার শ্রমিকরা।

হঠাৎ স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের মালামাল খালাস প্রক্রিয়া। এর ফলে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধ করেও কোন পণ্য খালাস নিতে পারছে না আমদানিকারকরা।

অন্যদিকে ভারত থেকে পণ্য বোঝাই শত শত ট্রাক আমদানিকৃত পণ্য খালাসের অপেক্ষায় পড়ে আছে বন্দরের অভ্যন্তরে।

পণ্য আমদানি-রপ্তানি না হওয়ায় লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে আমদানিকারকদের। বিষয়টি বার বার জানানোর পরও বন্দর কর্তৃপক্ষ হাত পা গুটিয়ে বসে আছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

বন্দরের একটি সূত্র জানায়, দেশের সিংহভাগ শিল্প-কলকারখানা, গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের বেশির ভাগ মেশিনারিজ আমদানি করা হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে।
ক্রেন ও ফর্কলিফট ছাড়া এ জাতীয় পণ্য বন্দরে আনলোড ও বন্দর থেকে খালাস নেওয়া সম্ভব নয়। মংলা বন্দর থেকে ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পর অতি পুরাতন ক্রেন ও ফর্কলিফট মংলা বন্দর থেকে ভাড়া করে এনে এখানে কাজ চালায় বন্দরকর্তৃপক্ষ।

২০১০ সালের ২১ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঢাকার মহাখালীর মেসার্স এসআইএস (সীস) লজিস্টিক্যাল সিস্টেমের ৫ বছর মেয়াদী চুক্তি হয়। ওই বছরের ১ আগস্ট থেকে তারা বেনাপোল স্থলবন্দরে বেসরকারী কার্গো হ্যান্ডলিং এর দায়িত্ব পায়।

তারা বন্দরে কয়েকটি নামমাত্র ফর্কলিফট ও ক্রেণ দিয়ে মালামাল ওঠানামার কাজ শুরু করে। কয়েকদিন কাজ করার পর এসব ফর্কলিফট ও ক্রেণ অকেজো হওয়া শুরু করে। কিন্তু মেরামতের কোন লক্ষণ দেখা যায় না।

বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার জানানোর পরও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেননি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও বন্দরের ঠিকাদার কোম্পানির দায়িত্বহীনতার কারণে বেনাপোল স্থল বন্দরে সকল প্রকার ভারি পণ্য লোড-আনলোড ঠিকমত করা যাচ্ছিল না।

পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা পড়েছিল চরম দুর্ভোগের মধ্যে। ২০১৬ সালে বেনাপোল স্থলবন্দরে বেসরকারী কার্গো হ্যান্ডলিং এ নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহবান করা হলে আগের হ্যান্ডলিং ঠিকাদার মেসার্স এসআইএস (সীস) লজিস্টিক্যাল সিস্টেম উচ্চ আদালতে রীট করে। এর ফলে বন্ধ হয়ে যায় দরপত্র আহবান প্রক্রিয়া।বিপাকে পড়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

নতুন কোম্পানী নিয়োগ দিতে না পেরে বন্দর কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন মামলা নিস্পতি না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কোন বিল পরিশোধ করা হবে না।

আর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও কৌশলগত কারনে মামলা নিস্পতির কোন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ৫ মাসের প্রায় দুই কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের।

বন্দর শ্রমিকরাও তাদের পারিশ্রমিকও পাচ্ছে না ৫ মাস যাবত। আর বকেয়া টাকা আদায়ের দাবি নিয়ে কর্মবিরতি ডাক দেন শ্রমিকরা। তার আগে গত ২৬ নভেম্বর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিস লজিস্টিক্যাল সিস্টেম বকেয়া টাকা আদায়ের দাবি নিয়ে কর্মবিরতি ডাক দেন।

২৭ নভেম্বর সকালে বেনাপোল বন্দর পরিচালকের অফিসে তাদের সাথে বৈঠক হয়। এ সময় বন্দর পরিচালক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য পাঁচ দিনের সময় নিয়েছিলেন। তারপরও শ্রমিকরা টাকা পায়নি।

এর ফলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানও বন্দরের শ্রমিকরা পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দেয় রোববার।

মুহিব