চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম হাফিজ আক্তার বলেছেন,  অন্যায় করলে ছাত্রলীগকে আর কোন ছাড় দেয়া হবে না। শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী তাপস সরকার খুনের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এসপি একথা বলেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে অনেক ছাড় দিয়েছি। এতে কোন লাভ হয়নি। ছাড় পেয়ে তারা আরো বেশী ঘটনা ঘটায়। তাদের অনাকাঙ্খিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকলের বদনাম হচ্ছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যদি চিন্তিত থাকতে হয় তবে চট্টগ্রাম জেলা নিয়ে কি করব?

এ সময় তিনি হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো.ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়ে হাফিজ আক্তার বলেন, বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যত মামলা আছে সবগুলো সচল কর। দোষী হিসেবে যাকে পাওয়া যাবে তাকে আটক কর। ছাত্রলীগ করে বলে যা ইচ্ছা তা করতে পারবে না। ছাত্রলীগকে আর ছাড় দেয়া যাবেনা।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছি,রাজনীতিও করেছি। কিন্তু এমন ঘটনা আমি আর দেখিনি। বুদ্ধিজীবি দিবসে দুই গ্রুপে মারামারি করে শিক্ষার্থী মেরে ফেলবে। এটি তো হয় না।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সূত্রপাত একপক্ষ থেকে আসেনি। উভয় পক্ষের দোষ আছে। উভয় পক্ষের দোষ না থাকলে এ ধরণের ঘটনা ঘটত না। সাবধান হয়ে যাও। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার জন্য আসছ, শুধু পড়ালেখা করবা। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধ্বংসাত্মক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে। হলে শুধু বৈধ শিক্ষার্থীরাই থাকবে।

এসময় তিনি হাটহাজারী থানার ওসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফের সাথে আলোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে হাফিজ আক্তারের সাথে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর)মো.শহীদুল্লাহ,হাটহাজারী সার্কেলের এএসফি আ ফ ম নিজাম উদ্দিন,হাটহাজারী থানার ওসি মো.ইসমাইল,ওসি(তদন্ত) মো.সালাউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন ভিএক্স ও সিএফসির মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংষ্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাপস সরকার। ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষ ঘটনার জন্য উভয়পক্ষকে দায়ি করেন।

 এমকে