রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার নতুন একটি কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে সোমবার দুপুরে শাহদৌলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করলে পুলিশের বাধায় কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় শাহদৌলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ৫ কিলোমিটার দূরের শরিফাবাদ কলেজ কেন্দ্রে যেতে হয়।
দুর্ভোগ এড়াতে শাহদৌলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা উপজেলা সদরে মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজে একটি নতুন কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিয়ে লাঠিচার্জ করলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা শুরু হয়। এ সময় ছুড়ে মারা ইটের আঘাত ও পুলিশের লাঠিপেটায় এক ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও দুই পুলিশসহ ১০ জন আহত হন।
আহতরা হলেন- বাঘা থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) হীরেন্দ্রনাথ, কনস্টেবল মোহাম্মদ তোতা, কলেজ গেটের ব্যবসায়ী সাজদার আমজাদ, শিক্ষার্থী দুর্জয়, মেহেদী, জাকারিয়া, জনি, ফরহাদ, আব্দুল্লাহ ও প্রান্ত। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শাহদৌলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, পুলিশের ধাওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী অফিসের ভেতরে আশ্রয় নিলে উপ-পরিদর্শক নুরে আলম ২ জন ছাত্রকে অফিসের ভেতরেই লাঠিপেটা করেন। এর ফলে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন নবাব জানান, আগামী ০৩ এপ্রিল সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মতে এক কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা আরেক কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেন। এর কারণে নানা দিক দিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ে পরীক্ষার্থীরা।
যার কারণে উপজেলা সদরে নতুন একটি কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে গেলে তাদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ জানান, বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করলে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় বলে জানান ওসি।
এমকে





