চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আন্তঃ স্কুল-মাদ্রাসা ফুটবল খেলায় দুইপক্ষের সংঘর্ষে খেলোয়াড় ও ছাত্রসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। রবিবার (২১ আগস্ট) বিকালে উপজেলার জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের প্রথমে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে ও পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মিরসরাই মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে দুর্গাপুর নগেন্দ্র চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ দিকে মিরসরাই মডেল সরকারি পাইলট স্কুলের খেলোয়াড়রা গোল দেয়। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি ওছমান গণি। এ নিয়ে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে গোল শূণ্যভাবে শেষ হওয়ায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে দুর্গাপুর স্কুলকে হারিয়ে মিরসরাই পাইলট স্কুল জয়লাভ করে। খেলা শেষে মিরসরাই পাইলট স্কুলের সমর্থকরা দুর্গাপুর স্কুলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এই ব্যাপারে জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভেন্যূর সচিব নুরুল আমিন জানান, অফসাইডে গোল বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং আহত হওয়ার ঘটনা অনভিপ্রেত। আগামী খেলাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুর্গাপুর নগেন্দ্র চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, আমাদের ছাত্রদের উপর এই হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমি কমিটির সাথে আলোচনা করে এই হামলার ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করব।

মিরসরাই মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র বা খেলোয়াড় সংঘর্ষে জড়ায়নি। কিছু অতি উৎসাহী দর্শক সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তবে আগামী খেলাগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তা আরও বাড়াতে হবে।

এই ব্যাপারে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আনোয়ার উল্ল্যাহ জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ব্যাপারে হামলার শিকার হওয়া বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করলে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরের খেলাগুলোতে এরকম ঘটনা যেন না ঘটে সে লক্ষ্যে আরও কঠোর নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।

এমএনজে