সেনাবাহিনী ছাড়া কোন ভাবেই কেএমপির পুলিশ দিয়ে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন,খুলনা সিটি কর্পোরেশন-কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু । 

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় পুলিশের গণগ্রেফতার এবং হয়রাণির প্রতিবাদে নগরীর মিয়াপাড়ায় নিজ বাস ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু একটি অর্থবহ, অংশগ্রহণমূলক ও ভীতিহীন নির্বাচন দিতে কেসিসি নির্বাচনে আবারো সেনাবাহিনী নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খুলনার পুলিশ জঘন্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। প্রচারের শুরুর দিকে শুধুমাত্র কর্মীদের গ্রেফতার করা হলেও এখন নেতাদের গ্রেফতার শুরু করেছে। এ পর্যন্ত দেড়শ’ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার রাত ৩টা পর্যন্ত আরও ২১জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঞ্জু বলেন, সরকার এবং সরকারি দল আতংক ছড়িয়ে বিএনপিকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের কোন অপচেষ্টাই সফল হয়নি। বরং তিনি গণসংযোগে বেরোলে জনতার ঢল নামছে। এ কারণে গণসংযোগ শেষ হলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে দেয়া হচ্ছে না, এমনকি অনেক নেতাকর্মীর পরিবারকে ঘরবাড়িও ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তবে, কর্মী-ভোটাররাও সেইভাবে তৈরি হচ্ছে। তিনি সময়মত কর্মীদের কাজে নামা এবং ভোটারদেরও ঘর থেকে বের হয়ে ভোট প্রদানের আহবান জানান।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এত ভয় কিসের? সরকারি দলের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নাকি উন্নয়নের জোয়ারে নৌকা ভাসাবেন? তাহলে আমাদের ওপর কেন এত হানা? খুলনার জনগণ সাড়ে ৯ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ১৫ মে রায় দেবেন- এ বার্তা পেয়েই পুলিশকে ব্যবহার করে তারা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এই শহরে সন্ত্রাসের মেয়র হয়ে আপনার সম্মান বাড়বে না। এভাবে গণগ্রেফতার, অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে যদি জিতেও যান তবে নগরবাসীর সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না, অবিলম্বে পুলিশকে গণগ্রেফতার বন্ধ করতে বলুন’। তিনি তালুকদার আব্দুল খালেককে সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে ভোটের রাজনীতিতে ফিরে আসার আহবান জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জামায়াতের মহানগর শাখার সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আলম, অ্যাডভোকেট বজলার রহমান, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আলম, খেলাফত মজলিসের মাওলানা নাসির উদ্দিন, মুসলীম লীগের অ্যাডভোকেট আক্তার জাহান রুকু, বিজেপির নগর সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন সেন্টু, শফিকুল আলম তুহিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মশিউর রহমান নান্নু, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শরিফুল ইসলাম বাবুসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিং শেষে নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচনী প্রচারে বের হন।