বরিশালের অগৈলঝড়া থানার মাগুরা গ্রামের বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম। দুবাই প্রবাসী তিনি। প্রায় ৫ বছর ধরে সেখানকার অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরিতে কাজ করছেন। স্ত্রী রিমার অসুস্থতার খবরে দুবাই থেকে ঢাকায় আসতে হয়েছে তাকে। শনিবার রাত ৮টার ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন তিনি।

হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে দ্রুত বের হওয়ার সময় একটি ট্রলি ব্যাগ রেখেই চলে আসেন তিনি। পরে রাস্তায় যাওয়ার সময় তিনি খেয়াল করেন তার সঙ্গের ব্যাগটি নেই। পরে আবার বিমানবন্দরে ফিরে আসেন।

এ দিন রাত ১০টার দিকে তিনি বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অফিসে এসে জানান তার একটি লাগেজ হারিয়ে গেছে। তবে তিনি তা কোথায় হারিয়েছেন তা জানাতে পারেন না।

এমন অবস্থায় এপিবিএনে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আলমগীর হোসেন ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় দেখেন যাত্রী তরিকুল ইসলাম তিনি তার হারিয়ে যাওয়া লাগেজ ছাড়াই বের হয়েছেন।

এ থেকে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন নিশ্চিত হন যাত্রী লাগেজটি টার্মিনালের ভেতরেই কোথাও আছে। এরপর তিনি কয়েকজন এপিবিএন সদস্যকে দিয়ে খোঁজ লাগান। এক পর্যায়ে তারা সাড়ে ১১টার দিকে টার্মিনালের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে গিয়ে যাত্রী তরিকুল ইসলামের হারিয়ে যাওয়া ব্যাগটি চিহ্নিত করেন। পরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আলমগীর হোসেন তার কাছে ব্যাগটি বুঝিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি আমার ছেলের জন্য ৫০ হাজার টাকা দামের স্যামসং গ্যালাক্সি এস-৫ সেট নিয়ে আসছিলাম। সেই মোবাইল সেটটি এই ট্রলির ভেতরেই ছিল। এছাড়াও কিছু নতুন কাপড় চোপড় ছিল। আমি আমার হারিয়ে যাওয়া ব্যাগটি ফিরে পেয়ে খুবই খুশি।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক ঘণ্টা আমি খুব দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। কষ্ট করে ছেলের জন্য মোবাইল নিয়ে আসার পরও তা দিতে পারবো না এমনটিই চিন্তায় ছিলাম আমি।

আমার হারিয়ে যাওয়া লাগেজ খুঁজে দিয়ে এপিবিএন সদস্যরা যে উপকার করলেন তা তিনি কোনো দিনও ভুলবেন না বলে জানান তরিকুল।

তিনি বলেন, আমি এখন খুবই খুশি। যা ভাষায় বলে বোঝাতে পারব না।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আলমগীর হোসেন বলেন, বিমানবন্দর ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী আসা যাওয়া করেন। অনেকেই মনের ভুলে কখনো লাগেজ, কখনো মোবাইল ফোনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রেখে চলে যান।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ সদস্যরা সেগুলো দেখতে পেলে তা অফিসে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে যোগাযোগ করে মালিককে সেগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া অভিযোগের ভিত্তিতে যে কোনো কিছু খুঁজে দেই ‍আমরা।

তিনি বলেন, হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র মানুষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ায় অনেকের মাঝেই এখন আস্থা এসেছে বিমানবন্দরে কোনো জিনিস হারালে তা পাওয়া যায়। সে থেকেই যাদের হারিয়ে যায় তারা এখন আমাদের কাছে আসেন। আমরাও তা খুঁজে বের করে মালিকের হাতে তুলে দেই।

যেহেতু বিমানবন্দরের বাইরে ও ভেতরে সিসি টিভি ক্যামেরা রয়েছে সেহেতু এখানে কেউ ওই হারানো জিনিস নিয়ে গেলেও তা ধরা পড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ