ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আরও শতাধিক গ্রাম। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ৫৮ ইউনিয়নের ৪ শতাধিক গ্রামের তিন লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি দিনযাপন করছে। দুর্বিসহ দিন কাটাচ্ছে বানভাসিরা।

বন্যার পানির প্রবল স্রোতে রৌমার উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ডিসি সড়কের ধর্মপুর এলাকা ও চিলমারী উপজেলার রানিগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হচ্ছে। কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এসব এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এখন কলা গাছের ভেলা ও নৌকা।
সরকারিভাবে খোলা হয়নি কোন আশ্রয় কেন্দ্র। বানভাসি পরিবারগুলো গবাদী পশুসহ আশ্রয় নিয়েছে বাঁধ ও উচু স্থানে। অনেকে নৌকা ও বাঁশের মাচায় আশ্রয় নিয়ে ১৬ দিন ধরে দুর্বিসহ দিন পার করছে।

বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট। দুর্গত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত নানা রোগ।

সরকারিভাবে সামান্য ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকার পাশাপশি বেসরকারিভাবে স্বল্প পরিসরে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা জুটছে না বিপুল সংখ্যক বানভাসির ভাগ্যে। বন্যাকবলিত এলাকার সর্বত্রই চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার।

জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, এ পর্যন্ত বন্যাদুর্গতদের জন্য ৮শ’ মেট্রিক টন চাল এবং ১১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে কমেছে তিস্তার পানি।

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই