ঠাকুরগাঁওয়ে বছরে সাড়ে ৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অটোবাইকের ব্যাটারি চার্জে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে এই চুরি করা হচ্ছে।   

বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও কলেজপাড়া এলাকার একটি রাইস মিলে ৩০টি অটোবাইকে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। কাছে গিয়ে এক অটোবাইক চালককে জিজ্ঞাসা করা হলো, চার্জ করতে কত টাকা লাগে? তিনি জানান, প্রতি অটোবাইকে চার্জ দিতে ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও শহরে প্রায় ২ হাজার অটোবাইক চলাচল করে। এসব অটোবাইক ব্যাটারি চালিত হওয়ার কারণে কিছু লোক এর ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ব্যবসা করছে।

শহরের কিছু রাইস মিল, কারখানা ও বাড়িতে অটোবাইক চার্জ দেওয়া হচ্ছে। জেলা শহরের ৪০টি স্থানে এসব অটোবাইক চার্জ দেওয়া হয়। একটি অটোবাইক চার্জ দিতে ১৩-থেকে ১৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।  

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎতের দাম সাড়ে ৯ টাকা। সে হিসেবে একটি অটোবাইকে চার্জ দিতে খরচ লাগে ১৪২ টাকা। কিন্তু ঠাকুরগাঁও শহরে একটি অটোবাইক চার্জ বাবদ মাত্র ১০০ টাকা লাগে।

এতে প্রতিদিন একটি অটোবাইকে ৪২ টাকার বিদ্যুৎ চুরি হয়। সে হিসেবে ২ হাজার অটো রিক্সায় ঠাকুরগাঁও শহরে দৈনিক ৮৪ হাজার টাকার বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে।  

কলেজপাড়া এলাকার একটি রাইস মিলের মালিক দৈনিক ৩০টি অটোবাইক চার্জ দেন। অথচ প্রতি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল আসে ৪০ হাজার টাকা।

ঠাকুরগাঁও শহরে প্রতিদিন অটোবাইকে ২২ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। আর সরকারের প্রতি মাসে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
 
ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব অবৈধ সংযোগের জন্য মাসোহারা পান- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শহরে কোন প্রকার অবৈধ সংযোগ নেই। বিদ্যুতের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। কোন ব্যক্তি যদি অবৈধ সংযোগ স্থাপন করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেআই