সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স আঠারোই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

আজ মঙ্গলবার গুলশানের স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিবাহিত শিশুর ক্ষমতায়নে একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে আমাদের সমাজে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের বিয়ে বন্ধ করতে না পারলে, আইন করে কোনো লাভ হবে না। তাই এ সমস্যা রোধ করতে মেয়েদের বিয়ের বয়স আঠারোই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নেদারল্যান্ডসের অর্থায়নে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে এ প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাজ করবে ইমেজ (ইনিশিয়েটিভস ফর ম্যারিড অ্যাডোলোসেন্ট গার্লস এম্পাওয়ারমেন্ট)।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, একই গ্রামে অনেক এনজিও একই বিষয় নিয়ে কাজ করছে। তাতে করে অন্যান্য এলাকায় আমাদের কার্যক্রম পৌঁছায় না। তাই সবার সমন্বয়ে বাংলাদেশের সব এলাকায় বাল্যবিবাহ রোধ করতে সব ধরনের কর্মসূচি নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারও এ বিষয়ে অগ্রগতির জন্য দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে। আশা করি, এনজিও ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরষ্পরকে সহযোগিতা করে কাজ করবে।

এ সময় জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় গড় বাল্যবিবাহের হার ৪৮ শতাংশ। এ হার সারা বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে এ হার ৬৪ শতাংশ। এদেশে ২০-২৪ বয়সী নারীদের প্রতি ৩ জনের মধ্যে অন্তত একজনের বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগেই।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতি ৩ জনের মধ্যে ২ জন শিশুর ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বাল্যবিবাহের হার কমিয়ে আনতে এ ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ‘ইমেজ’।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ক সচিব এলা দে ভুগড ইনপুট সেশনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রধান সুলতানা কামাল, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ নজরুল ইসলাম, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার মারটিন ভান হুগস্ট্রাটেন, রেড অরেঞ্জের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্নব চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, ইমেজ নেদারল্যান্ডসের অর্থায়নে, যৌথভাবে টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস ও রেড ওরেঞ্জের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ও নীলফামারী -এ তিন জেলায় মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবে টেরে ডেস হোমস লোসান, এস কে এস ফাউন্ডেশন এবং পল্লীশ্রী।

এমকে