কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফিস জমা না নেয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারন মানুষ। টাকা জমা না দিতে পেরে জেলা প্রশাসক ও বিআরটি অফিসে ধরনা দিচ্ছে শত শত মানুষ।
সুত্র জানায়, কুষ্টিয়ায় ৮টি বেসরকারী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় এই ফিসের টাকা জমা নেওয়ার কথা থাকলেও জমা নিচ্ছে মাত্র একটি ব্যাংক। এতে টাকা জমা দিতে তিন থেকে চার দিন, আবার কখনও আরও বেশী সময় লাগছে।
বৈধ কাগজ পত্র না থাকায় সড়কে পুলিশী ঝামেলা আর কাগজপত্র তৈরী করতে গিয়ে ভোগান্তি এই দুইয়ের মাঝে পড়ে নাভিশ্বাস উঠেছে মোটর সাইকেল মালিকদের।
সম্প্রতি পুলিশ কুষ্টিয়ায় রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল আটকে উপর্যুপূরী অভিযান শুরু করলে বেড়ে যায় মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের পরিমান। এ অবস্থায় মোটরসাইকেল মালিকরা রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। খোজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, ইষ্টার্ণ ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, এসআইবিএল, মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক ও ষ্টান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় শাখার সাথে রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যানবাহনের সব ধরণের ফিস জমা নেওয়ার চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ)।
কিন্তু কেবল মাত্র এসআইবিএল এসব ফিস জমা নিচ্ছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল মালিকরা। প্রতিদিন কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলা থেকে শত শত মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিষ্ট্রেশন ফিস জমা দিতে আসেন জেলা শহরে।
তারা শহরের নবাব সিরাজদ্দৌলা সড়কে এসআইবিএল’র শাখায় ভিড় করেন। কিন্তু ব্যাংকে প্রতিদিন বড় জোর ২৫/৩০ মানুষ এই ফিসের টাকা জমা দিতে পারেন। বাকিরা টাকা জমা না দিতে পেরে ফিরে যান। অনেকে দুই সপ্তাহ থেকে ঘুরে টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
দৌলতপুর উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে আসা শরীফুল ইসলাম জানান, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে এসে ৩ দফা ঘুরে এসআইবিএল ব্যাংকে কোন মতে টাকা জমা দিতে পেরেছেন তিনি। একই উপজেলার হরিণগাছী গ্রামের আব্দুস সাত্তার বলেন, ৫ দিন ধরে ব্যাংকে ঘুরেও টাকা জমা দিতে পারেননি।
মিরপুর উপজেলার আটিগ্রামের আব্দুল জলিল জানান, মাত্র কয়েকদিন মোটরসাইকেল কিনেছেন কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন না থাকায় পুলিশ সেটি আটক করেছে। এরপর গত ৭ দিন ধরে ব্যাংকে ধর্ণা দিয়েও রেজিষ্ট্রেশনের ফিস জমা দিতে পারেননি। ফলে তার মোটরসাইকেল পুলিশ হেফাজতেই রয়ে গেছে। মিরপুর পৌর এলাকার মাহফিজুর রহমান সুজন, অলক, পারভেজ জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ভোর ৫টায় যেয়েও রেজিষ্ট্রেশনের ফিস জমা দিতে পারেননি।
স্থানীয় মোটর সাইকেল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান লাকী বলেন, রেজিষ্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল রাস্তায় পেলেই ধরছে পুলিশ। অন্যদিকে সময় মত
রেজিষ্ট্রেশন ফিস জমা দিতে পারছেননা ক্রেতা। এতে করে মোটর সাইকেল বিক্রির পরিমান দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আশরাকুর রহমান বলেন, প্রতিদিন কার্যালয়ে ৪০ থেকে ৫০ জন গ্রাহক টাকা জমা দিতে পারছে না বলে অভিযোগ দিচ্ছে। এটা দ্রুত নিরসন করা উচিত। সেজন্য বিআরটিএ ঢাকা কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।
এদিকে, ব্যাংকে সময় মত ফিসের টাকা জমা না দিতে পেরে শত শত মোটরসাইকেল মালিক জেলা প্রশাসকের অফিসসহ স্থানীয় বিআরটিএ অফিসে ভিড় করছেন। এ কারণে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন মঙ্গলবার (২১জুন) সংশিষ্ট ৮টি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সাথে বৈঠক করে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মাসুম বিলাহ বলেন, বিআরটিএর টাকা জমা নিতে হয় সেটা জানা নাই। ব্যাংকটির কেন্দ্রীয় শাখা থেকেও এ ব্যাপারে কোন নিদের্শনা দেওয়া হয়নি। এজন্য টাকা নেওয়া হচ্ছে না। ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বাসারুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকে জায়গা স্বল্পতার কারণে টাকা নিতে হিমশিম পোহাতে হয়। এজন্য গ্রাহকদের ভোগান্তি হয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, সাধারন মানুষ প্রতিদিনই তার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। সাধারন মানুষের ভোগান্তি কমাতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
এমই





