নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারন করছে। ভেঙে গেছে কয়েকটি বাঁধ। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। বেশ কয়েকটি পাকা সড়ক ডুবে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
আজ বুধবার সকালে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েণ্টে বিপৎসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ও ধরলার নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানান, জেলা প্রশাসনের হিসেবে ৯টি উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়নের ৭১২টি গ্রাম এখন পানির নিচে। এক লাখ ৩৫ হাজার পরিবারের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে ৫ হাজার ৯৬৫ পরিবার। ৩২টি আশ্রয় কেন্দ্রে দুই হাজার ৬০০ জন বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছে। সাড়ে ৪শ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ও ৫০ কিলোমিটার পাকা রাস্তার ক্ষতি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকেৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রে ১০, ধরলায় ৬ এবং দুধকুমারে ১২ সেন্টমিটার পানি বেড়েছে। উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী জানান, কাজিরচরে তিস্তার নদীর একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৬০ মিটার অংশ ভেঙে যাওয়ায় ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমন ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
নাগেশ্বরীর নুন খাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজামাল জানান, সারিসুরি গ্রামে একটি বেড়ি বাঁধ ভেঙে সংলগ্ন ৫-৬টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, যাত্রাপুর বাজারসংলগ্ন একটি বেড়ি বাঁধ ভেঙে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এজাহার আলী জানান, ধরলা নদীর পানির প্রবল চাপে রামপ্রসাদ গ্রামে একটি রাসত্মা ভেঙে ৭-৮টি গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রোপা আমন ও বীজতলা।
যাত্রাপুর ইউপি সদস্য রিপন মিয়া জানান, বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়ক, কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের আরডিআরএস অফিসসংলগ্ন, কুড়িগ্রাম-কালিগঞ্জ সড়কের মন্নেয়ারপাড় এলাকা, কুড়িগ্রাম ঘোগাদহ পাকা রাস্তায় পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কে চার দিন ধরে গরু ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মো. মকবুল হোসেন জানান, আমন, বীজতলা, সবজিসহ প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার কৃষক। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, বন্যাকবলিত স্কুলের মধ্যে ১৮৮টিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব জানান, এ পর্যন্ত ৫০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিতরণ হয়েছে ৪০০ মেট্রিকটন, প্রাপ্ত আট লাখ টাকার মধ্যে সাত লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। শুকনো খাবার এক হাজার প্যাকেট বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এআই





