কুষ্টিয়ায় আমন চাল সংগ্রহ ও শ্রীলংকায় চাল রফতানিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার স্বপন কুমার কুন্ডুর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, আমন চাল সংগ্রহ ও শ্রীলংকায় চাল রফতানি নিয়েও খাদ্য কর্মকর্তা কমিশন নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় চাল ক্রয়ের মাধ্যমে জেলায় আমন চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। জেলায় আমন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সদর উপজেলাতেই প্রায় সাড়ে ৩০০ চালকলের মাধ্যমে ৪ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে।
এবার যেসব মিল সরকারি গোডাউনে চাল বিক্রির চুক্তি করেছেন তাদের কাছ থেকে চালকল মালিক সমিতি ও দলের নাম ভাঙিয়ে কেজিপ্রতি এক টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চালকল মালিক সমিতির এক নেতা খাদ্য অফিসে বসেই এ অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মিল মালিকরা।
এছাড়া সরকার শ্রীলংকায় যে চাল রফতানি করছে তার বড় একটি অংশ সরবারহ করছে কুষ্টিয়ার ৫ অটো মিল মালিক। ৩ হাজার ১টন চাল কুষ্টিয়া থেকে শ্রীলংকায় যাবে। এ চাল নিয়েও মিল মালিকদের কাছ থেকে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা প্রতি টনে ১ হাজার ২০০ টাকা ভাগ বসাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মিল মালিকরা ও সরকারি দলের নেতারা।
জেলা খাদ্য ক্রয় কমিটির সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, চাল সংগ্রহ ও রফতানি নিয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি মিলা মালিকদের লাভের ভাগ থেকে প্রতি টনে ৭০০ টাকা কমিশন নিচ্ছেন।
আজগর আলী অভিযোগ করে বলেন, আমরা জেলা খাদ্য ক্রয় কমিটির সদস্য হলেও কোন মিলার শ্রীলংকায় চাল সরবরাহ করছে তা জানতে পারছি না। দুর্নীতিবাজ চাল ব্যবসায়ী রশিদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বরাদ্দ ভাগবাটোয়ারা করছেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের অটো মিল থাকলেও তাদের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অথচ রশিদের কথা মতো নানা অপকর্ম করছেন জেলা খাদ্য কর্মকর্তা।
এ সময় সরকারী দলের নেতারা খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজি রবিউল ইসলাম চাল সংগ্রহে নানা অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তবে সরকারি দলের নেতারা খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে করলেও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতাও এর ভাগ পাচ্ছেন বলে চালকল মালিক সমিতির এক নেতা জানায়।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার কুন্ডু বলেন, এসব অভিযোগ সঠিক নয়। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুষ্টিয়ার এক গোডাউন কর্মকর্তা বলেন, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা প্রতিটি মিল মালিকের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছে। সরকার শ্রীলংকায় যে চাল পাঠাবে সেখান থেকে মোটা অংকের কমিশন নিচ্ছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ওপরে কমিশন আদায় হবে বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, জেলা খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএইচ





