চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানার মির্জাপুল ইকুইটি ভিলেজের ফ্যাটে গৃহবধূ শারমিন আক্তারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের সতীনসহ দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পারিবারিক বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে প্রবাসী আবদুল হাকিমের স্ত্রী শারমিন আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ইকুইটি ভিলেজের চতুর্থ তলায় ই-৫ নম্বর ফ্ল্যাটে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দীপক জ্যোতি খীসা বলেন, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে গৃহবধূ শারমিন আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে ওই ফ্ল্যাট থেকেই নিহত শারমিন আক্তারের সতীন (স্বামীর বড় বউ) রোজি আক্তার এবং তার ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, প্রবাসী এম এ হাকিমের দুই স্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগরীতে দুটি আলাদা ফ্ল্যাট বাসায় বসবাস করতেন। ইকুইটি ভিলেজের চতুর্থ তলায় থাকতেন বড় স্ত্রী রোজী আক্তার। এই রোজি আক্তারের সম্মতিতেই এম এ হাকিম শারমিন আক্তারকে বিয়ে করেছিলেন ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে। বিয়ের পর গত দেড় মাস পূর্বে আবার মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবিতে নিজ কর্মস্থলে চলে যান প্রবাসী হাকিম। হাকিমের বড় স্ত্রীর সংসারে রয়েছে তিন কন্যা এবং নিহত শারমিন আক্তারের ১০ মাস বয়সি একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
নিহত শারমিন আক্তারের পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ছোট স্ত্রী শারমিন আক্তার তার সতীন রোজি আক্তারের ফ্ল্যাটে অনেকটা খুশি মনেই বেড়াতে গিয়েছিলেন। দুপুরের দিকে বড় স্ত্রী রোজি আক্তার তার দুই মেয়ে ও গৃহশিক্ষককে কালামিয়া বাজার বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। দুপুর ১২টার পর থেকেই নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখে রোজি এবং তার ভাইকে বাসায় ডেকে আনে। এর পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে রোজি আক্তার ও তার ভাই মিলে শারমিন আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে পেটে ও মাথায় আঘাত করে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীরা বাসাতেই অবস্থান করে। পরে পুলিশ এসে শারমিনের লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে রোজি আক্তার ও তার ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর নিহত শারমিন আক্তারের স্বামী হাকিমকে খবর দেয়া হলে তিনি আবুধাবি থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। শুক্রবার বিকালে তিনি দেশে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডে রোজি আক্তার ছাড়াও অন্য কেউ সম্পৃক্ত কি-না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
কেএইচ





