টাঙ্গাইলবাসী বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘদিনের বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি মেনে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেই সাথে ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে টাঙ্গাইলকে ঢাকা বিভাগের সাথেই যুক্ত রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব লায়ন নজরুল ইসলাম।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৬ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীসভায় ময়মনসিংহকে নতুন বিভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টাঙ্গাইলবাসী বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘদিনের বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি মেনে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেই সাথে ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে টাঙ্গাইলকে ঢাকা বিভাগের সাথেই যুক্ত রাথার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সর্বশেষ মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে তাদের সীমানা ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃতত করে চন্দ্রা পর্যন্ত চিহ্নিত করেছে। চন্দ্রা থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরেই টাঙ্গাইল জেলার সীমানা। সেখান থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১১০ কিলোমিটারেও বেশি।’
এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং কৃষি তথ্য মতে লোকসংখ্যা ও আয়তনে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার ১২ উপজেলা এবং আয়তন ৪৩৯৬ বর্গকিলোমিটার। টাঙ্গাইল জেলা যদি বৃহত্তর ঢাকার সাথে যুক্ত হয় তবে আয়তন দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯০৪ বর্গ কিলোমিটার।
আর টাঙ্গাইল জেলা যদি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার সাথে নাও থাকে তবে আয়তন দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৩৫৫ বর্গ কিলোমিটার। অর্থ্যাৎ ময়মনসিংহের সাথে টাঙ্গাইল যুক্ত না থাকলেও এর আয়তন বৃহত্তর ঢাকার চেয়ে (টাঙ্গাইল যুক্ত অবস্থায়) ২৪৫১ বর্গ কিলোমিটার বেশি থাকে।
টাঙ্গাইলকে ঢাকার সাথে রাখার দাবিতে ইতিমধ্যেই টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুকের নেতৃত্বে সকল রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদসহ সবাই সর্বাত্বকভাবে এই আন্দোলনের সাথে থেকে একাত্বতা প্রকাশ করেছে এবং কর্মসূচীও পালন করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তারই আলোকে আমরা মনে করি, টাঙ্গাইলকে ঢাকা বিভাগের সাথে সংযুক্ত রেখেই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ভাবে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।’
এসএইচ





