রাজধানীর ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের ছাএ জাহিদুল ইসলাম আত্বহত্যা করেছে। ধূমপানের করার কারনে মারধর ও ছাড়পত্র (টিসি) দিয়ে কলেজ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় এবাদশ শ্রেণীরর ছাএ জাহিদ।
ভাটারা থানা পুলিশ জানায়, জাহিদের সহপাঠী ও ঢাকায় তার স্থানীয় অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর ভাটারায় ক্যামব্রিয়ান কলেজ হোস্টেলে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ জাহিদের লাশ উদ্ধার করে।
মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা এক মামলায় হোস্টেল সুপার ওমর ফারুক ও হোস্টেল সহকারী আশরাফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারওয়ার হোসেন বলেন, "সিগারেট খাওয়ায় গালমন্দ, মারধর করায় হোস্টেল সুপার কর্তৃক টিসি দেওয়ার হুমকিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে হয়ত সে আত্মহত্যা করেছে।"
তিনি বলেন, "এ ঘটনায় সকালেই অভিযুক্ত হোস্টেল সুপার ওমর ফারুক ও সহকারী আশরাফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে সন্ধ্যায় জাহিদের চাচা হেলাল হাসান আটক দু’জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।"
জাহিদ ক্যামব্রিয়ান কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। সে কক্সবাজার সদরের দক্ষিণ দিল পাড়া গ্রামের শাকে উল্লাহর ছেলে। চার ভাই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়।
ঢাকায় জাহিদের স্থানীয় অভিভাবক ও চাচা হেলাল হাসান বলেন, "সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে কলেজ হোস্টেলে গিয়ে দেখি, জাহিদের লাশ ফ্যানে সঙ্গে ঝুলে আছে। এরপর তার বন্ধুদের আলাদা একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে ঘটনাটি শুনি। সহপাঠীরা পুরো ঘটনার বর্ণনা করেছে।"
সহপাঠীদের বরাত দিয়ে চাচা হেলাল হাসান বলেন, "কলেজের নিয়মানুযায়ী বিকেলে রিডিংরুমে সহপাঠীদের সঙ্গে পড়তে যায় জাহিদ। পড়া শেষে রাত ৯টার পরে বাইরে বের হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সিগারেট খায় সে। এরপরে সবার সঙ্গে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলেজের নিচতলায় রাখা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে যায় জাহিদ।"
এ সময় হাজিরা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন কলেজের হুজুর হিসেবে পরিচিত হাজিরা গ্রহণকারী আশরাফ ও হোস্টেল সুপার ওমর ফারুক।
চাচা বলেন, "জাহিদ যখন স্বাক্ষর করছিল তখন পাশে বসে থাকা হোস্টেল সুপার হুজুরকে মুখে দুই আঙুল দিয়ে (সিগারেট খাওয়ার ধরন) ইশারায় দেখায়, সে (জাহিদ) ধূমপান করে এসেছে। তখন হাজিরা সংগ্রহকারী আশরাফ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পকেট তল্লাশি করে। তল্লাশিতে জাহিদের কাছে বেশকটি সিগারেট পাওয়া যায়।"
"তখন হুজুর আশরাফ ও হোস্টেল সুপার ওমর ফারুক তাকে ৭/৮টি থাপ্পড় দিয়ে বলে, তোমার বাবাকে ফোন করে সিগারেট খাওয়ার বিষয়টি জানাব এবং টিসি দিয়ে বের করে দেব।"
জাহিদের চাচা আরও বলেন, "এরপর জাহিদ ও উপস্থিত সহপাঠীরা তাদের কাছে ক্ষমা চায়। জাহিদ হোস্টেল সুপারের পা ধরে ক্ষমা চাইতে গেলে তাকে লাথি মেরে সরিয়ে দেয়। এতে মানসিকভাবে সে ভেঙে পড়ে। এ সময় ইমন নামে আরেক সহপাঠী জাহিদের পক্ষে ক্ষমা চাইতে গেলে তাকেও থাপ্পড় মেরে আহত করেন হোস্টেল সুপার।"
মৃতের চাচা বলেন, "রাত ১২টার দিকে সুপার ওমর ফারুক জাহিদের বাবাকে ফোন করে বলেন "আপনার ছেলেকে সকালে এসে নিয়ে যাবেন। আমরা তাকে টিসি দেব।" এরপর তার বাবাও জাহিদকে ফোন করে অনেক বকা দেয়। এতে মানসিকভাবে জাহিদ ভেঙে পড়ে। সকাল ৭টার দিকে তার বন্ধু নিশান এসে দেখে জাহিদ মাথার ওপর বালিশ চেপে শুয়ে আছে। তখন তাকে সান্ত্বনা দিয়ে চলে আসে। কিছুক্ষণ পরে জাহিদের কক্ষে এসে হোস্টেল সুপার আবারও তার বাবাকে ফোন করে তাকে নিয়ে যেতে বলে।
পরে সকাল ৮টার দিকে কেউ একজন তার কক্ষে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে জাহিদকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়।
এ ঘটনায় জাহিদের বন্ধুরা জানায়, কলেজের নিয়ামানুযায়ী সিগারেট খাওয়া বড় অপরাধ। এটা ধরা পড়লে টিসি দেওয়ার নিয়ম আছে। আর জাহিদের সিগারেট খাওয়ার ঘটনাটি ধরা পড়ে যাওয়ায় মারধর ও টিসি দিয়ে দেওয়ার হুমকিতে সে আত্মহত্যা করেছে।
এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারওয়ার হোসেন বলেন,"আমরা ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আশা করি আত্মহত্যার প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।"
ইআর





