রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় এবং দিনাজপুরের কাঞ্চন-কাহারুল ও বিরল রুটে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি-কোটি টাকার কাজের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

রেলওয়ে সুত্রে জানা গেছে, উত্তরের জেলার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি প্রকল্প ২০০৯ সালে একনেকে(জাতীয় অর্থনীতি নির্বার্হী কমিটি) অনুমোদিত হয়।

প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে ২০১১ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ৩ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লাটফর্ম, কালর্ভাট-ব্রিজ,ব্রডগেজ লাইন নির্মান ও পঞ্চগড়ে সাবস্টেশন স্থাপন সহ ৫ টি প্যাকেজের কাজ আড়াই বছরের শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নানা অজুহাতে প্রকল্প মেয়াদ বাড়িয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। সুত্র জানায়, প্রকল্পের শুরুতে ৯শ ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। পরে এর ব্যয় বাড়িয়ে ১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

প্রকল্প কাজের নকশার ফাক ফোকরের সুযোগ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের খেয়াল খুশিমত কাজ করছে বলে স্থাণীয়রা অভিযোগ করেছে।
ঠাকুরগাঁও আখানগর রেলস্টেশনের অবসর প্রাপ্ত কর্মচারি আনিসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন লোক দেখানো কাজ হচ্ছে। পুরাতন ভবন কোন রকম প্রলেপ দিয়ে রংচং করে কাজ শেষ করছে।

একই সুরে বলেন এই স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মী আব্দুল হাকিম। তিনি এক পর্যায়ে গণমাধ্যম কমীদের উপর বিরক্ত হয়ে বলেন, এসব লিখে কি হবে? স্থাণীয় জনপ্রতিনিধি আনু মোহাম্মদের অভিযোগ প্লাটফর্মের ফিটিংস্,বৈদ্যূতিক বাতি,টাইল্স মান সম্মত ব্যবহার করা হয় নি। এগুলো যখন তখন নষ্ট হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশনের এক পদস্থকর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করা শর্তে বলেন প্রভাব শালীদের ছত্রছায়ায় রেল বিভাগের একশ্রেণীর প্রকৌশলীর যোগ সাজসে ঠিকাদাররা যেনতেন ভাবে কাজ করছে। প্রতিবাদ করলেই চাকরি চলে যাবে। রেল যাত্রী শামসুল হক (৫৫) বলেন, যাত্রীদের আখানগর স্টেশনে ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়নি। এছাড়া এ স্টেশনে কানেক্টিং সড়ক,পার্কিংব্যবস্থাও নেই। অন্যদিকে রেল ওয়ের পুরাতন ব্রিজের ইট ও কাঠের স্লিপার গুলো হরিলুট হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসংগে রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-সহকারি প্রকৌশলী তারেকুল ইসলাম বলেন রেলের কাজ নিয়ে আপনাদের(সাংবাদিকদের) ভাবতে হবে না। কাজ ঠিক হচ্ছে।

এমবিএইচ