বাংলাদেশের কিংবদন্তি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ‘সায়েবাস মেথড’-এর স্রষ্টা ডা. সায়েবা আক্তার এবার একুশে পদক পাচ্ছেন। এবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিসরূপ ২০ জনকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

‘সায়েবাস মেথড’ নামের এই পদ্ধতি অজস্র নারীর জীবন বাঁচানোর এক মোক্ষম উপায় হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।

বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। এছাড়া এবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটও পাচ্ছে একুশে পদক।

পুরস্কারে মনোনীতদের প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন ২ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হবে।

সারাবিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে একজন করে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ঘটছে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে। এর ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ। এই চিরাচরিত ভয়ঙ্কর চিত্রটি বদলে দিতে বিস্ময়কর অবদান রাখেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ডা. সায়েবা আক্তার।

ক্যাথেটার দিয়ে একটি কনডম প্রসূতির জরায়ুর ভেতর ঢুকিয়ে তা বাতাস দিয়ে ফুলিয়ে রক্ত বন্ধ করতে তাঁর আবিষ্কৃত এই পদ্ধতি এখন বিশ্বের বহু দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে।

২০০৩ সালের পর থেকে বিশ্বের অনেক শীর্ষ সারির মেডিকেল জার্নালে তার এই গবেষণা পত্রটি ছাপা হয়েছে। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন ডা. সায়েবা আক্তার।

বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও আফ্রিকা মহাদেশ ও দক্ষিণ আমেরিকার এক ডজন দেশে সরকারি কর্মসূচির অংশ হয়ে উঠেছে এই পদ্ধতি। নেপাল ও পূর্ব তিমুরেও এটা ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার।

আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালের একুশে পদকে মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বছর যারা একুশে পদক পাচ্ছেন-

১. ভাষা আন্দোলনে আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর); ২. শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম ডালিয়া নওশিন;৩. শিল্পকলায় (সংগীত) শঙ্কর রায়; ৪. শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম মিতা হক; ৫. শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান; ৬. শিল্পকলায় (অভিনয়) এস এম মহসীন; ৭. শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান; ৮. মুক্তিযুদ্ধ হাজী আক্তার সরদার (মরণোত্তর); ৯. মুক্তিযুদ্ধ আবদুল জব্বার (মরণোত্তর); ১০. মুক্তিযুদ্ধ ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) (মরণোত্তর); ১১. সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ আলী (ওয়াজেদ জাফর); ১২. গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম ; ১৩. গবেষণায় হাফেজ ক্বারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ; ১৪. শিক্ষায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া; ১৫. অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম ; ১৬. সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান; ১৭. ভাষা ও সাহিত্যে ড. নুরুন নবী; ১৮. ভাষা ও সাহিত্যে সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর); ১৯. ভাষা ও সাহিত্যে বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি; ২০. চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। এছাড়া গবেষণায় পাচ্ছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট।

এমবি