বিভিন্ন গণমাধ্যম শুধু বার্ন ইউনিটে পড়ে থাকে কিন্তু ক্রসফায়ারে পঙ্গুত্ব বরণকারীদের চোখে দেখেনা বলে মন্তব্য করেছেন পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ কর্তৃক গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা বন্ধ, দ্রুত সংলাপ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত পেশাজীবী সমাবেশে তিনি মন্তব্য করেন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ড্যাবের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠিনক সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম রফিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

গাজী আরো বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমের চোখ শুধু মাত্র বার্ন ইউনিটে, অথচ পঙ্গু হাসপাতাল তারা দেখেনা।সরকারিবাহিনীর গুলিতে কত মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছে, কতো মায়ের বুক খালি হয়েছে সেটাও একটু দেখান।তা না হলে আমরা কি করে বুঝবো গণমাধ্যম নিরপেক্ষ।’

খালেদা জিয়াকে কেন গ্রেফতার করবেন সরকারের প্রতি এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘দয়া করে মাথা ঠাণ্ডা করুন।কোন অপরাধে খালেদাকে গ্রেফতার করবেন? তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে লড়াই করছেন, দেশের মানুষের স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্য কাজ করছেন।’

‘বর্তমানে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে’ তথ্য মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গাজী বলেন, ‘তাহলে একুশে টেলিভিশনের সালাম, এনটিভির মোসাদ্দেক হোসেন ফালু, আমার দেশের মাহমুদুর রহমান গ্রেফতার কেন? চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত ও ইসলামী টেলিভিশন বন্ধ কেন? সাগর রুনী হত্যাকারীদের এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছেনা কেন?’

এখন সরকারি দল ছাড়া সকল রাজনৈতিক দলের অফিসে তালা দেওয়া উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘অন্য দলের কারও অফিস করার সুযোগ নাই, বাসায় থাকতে পারছেনা এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের বাসায়ও থাকতে পারছেনা তারা।

যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করেছে তারাই এদেশ থেকে উৎখাত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে বর্তমান সরকার বৈধ নয়।অতীতে কখনও একদলীয় সংসদ টেকেনি, টেকতে দেওয়া হয়নি, এবারও টেকতে দেওয়া হবেনা।’

কেএইচ