যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পরররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের অংশীদার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক দেখতে চায় ওয়াশিংটন।ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক একই থাকবে বলেও মনে করেন তারা।
বুধবার নিউ জার্সিতে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা জানান।
‘ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন’ আয়োজিত ওই সভায় যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেনদেজও ছিলেন।
সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভারতের মতো বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অংশীদার উল্লেখ করে বিসওয়াল বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আমরা আশা করছি।বিসওয়ালও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতি বজায় রাখতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য তার দেশ ঢাকাকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং মানুষের নিরাপত্তা আরো সুসংহত করতে সুশীল সমাজকে নানা বিষয়ে অবদান রাখার আরো বেশি সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এই সভায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটির সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ খন্দকার এবং নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী।
এক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মোদির সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগকে তুলে ধরেন তিনি।
“প্রধানমন্ত্রীর (মোদি) শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানোর মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকের প্রকাশ ঘটেছে। নিকট প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার ঐকান্তিক আগ্রহের প্রকাশ ঘটেছে।”
সিনেটর মেনেনদেজ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গণতন্ত্রের বিকাশে ভারতের ভূমিকা অপরিসীম এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে ভারত নেতৃত্ব নিতে পারে।
গত বছর বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে দুই প্রধান দলকে আলোচনায় বসানোর উদ্যোগ নিয়ে ঢাকা সফরে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক এই সহকারী মন্ত্রী।তবে কূটনীতিকদের ওই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি। বিএনপির বর্জনের মধ্যে নির্বাচন করে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ।
৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ভারত এই নির্বাচনকে সমর্থন করে জানায়, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই নির্বাচন প্রয়োজন ছিল।
ওই নির্বাচনের সময় ভারতে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেসকে লোকসভা নির্বাচনে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ঢাকা-নয়া দিল্লি সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা অনেকে করেছিলেন, যদিও নরেন্দ্র মোদির নতুন সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছে।
ঢাকা, ০৩ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





