কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুড়াকুটি মাষ্টারপাড়া গ্রামের মহুসীন আলীর ছেলে মুকুল হোসেন বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ১৫ জন যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীরা গতকাল রোববার প্রতারকের বাবাকে আটক দিলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে ।

ভুক্ত ভোগীদের অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, মুকুল হোসেন কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র ওমানে চাকুরী করার পর ৮ মাস আগে বাড়িতে আসে । বাড়িতে আসার পর সে ওই দেশে শ্রমিক পাঠানোর কথা বলে ১৫জন যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

বিভিন্ন সময় প্রতারক মুকুল যুবকদের রক্ত পরীক্ষার নাম করে ঢাকার একটি কথিত রিক্রুডিং এজেন্সিতে নিয়ে গিয়ে রক্ত পরীক্ষার নাম করে প্রত্যেকের কাছ থেকে আবার ১০ হাজার করে টাকা নিয়ে তাদের হাতে একটি করে জাল ভিসা ধরিয়ে দেয়। জাল ভিসার ঘটনাটি ফাঁস হলে মুকুল রাতারাতি গাঁ ঢাকা দেয়।

প্রতারক মুকুলকে না পেয়ে গত ১৯মে নিতাই ডাঙ্গাপাড়া যাওয়ার সময় প্রতারনার স্বীকার ভুক্তভোগী একরামুল হক প্রতারকের বাবা মহসীন আলীকে তার বাড়িতে আটকে রাখে। প্রতারক মুকুলের বাবাকে ৪ দিন আটক রাখলেও   সে ধরা দেয়নি। জানতে পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ গত ২২ মে মহসীন আলীকে উদ্ধার করে ।

কিশোরগঞ্জ মেডিকেল মোড় এলাকার জয়নাল হোসেনের ছেলে ভুক্তভোগি ওয়াসিম মিয়া (২৫) জানায়, আমার কাছ থেকে মুকুল হোসেন ওমানে পাঠানোর কথা বলে ২ লাখ টাকা নিয়েছে দীর্ঘদিনেও সে আমাকে বিদেশে পাঠাতে না পাড়ায় টাকা ফেরৎ চেয়েছি কিন্তু এখন তার দেখা পাওয়া যাচ্ছেনা। সে পালিয়ে গেছে।

উত্তর বাহাগিলি গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে সাদেকুজ্জামান (২৮) জানায়, প্রতারক মুকুল হোসেন ওমানে তাকে ৩৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেয়ার কথা বলে ৩ লাখ টাকা নেয়। বিদেশে যাওয়া কিংবা টাকা ফেরৎ না পেলে আমার বেছে থাকা মুল্যহীন হবে। এরকম আরো অনেক ভুক্তভোগী গোলাম রব্বানী, সাহাবুল হোসেনসহ আরো অনেকে প্রতারক মুকুলের ফাঁদে পরে নিঃস্ব হওয়ার কথা বলেন।

এ ব্যাপারে প্রতারক মুকুল হোসেন পলাতক থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মুকুল হোসেনের কাছে যারা প্রতারনার স্বীকার হয়েছে তারা শুধু মৌখিক ভাবে জানিয়েছে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমআর