ঘনিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩৯ বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা এবার ভোটারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে পবিত্র ঈদুল আযহাকে টার্গেট করেছেন। নির্বাচনের আগে বাকি এই একটি ঈদ।
আওয়ামীলীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনি এলাকায় আগাম প্রচারণা হিসেবে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ শুরু করেছেন। এমনকি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিকে নির্বাচনি প্রচারনার কাজে লাগাচ্ছেন প্রার্থীরা। নানা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রার্থীদের আনাগোনায় ঈদ আয়োজনে যুক্ত হয়েছে নির্বাচনি আমেজ। সরগরম হয়ে উঠেছে কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার জনপদ। প্রতিবন্ধী, বিধবা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ অসহায় মানুষকে সহায়তা করা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে আর্থিক অনুদান, কোরবানীর মাংস বিতরনসহ বিভিন্নভাবে প্রচারনা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
বগুড়া-৪ আসনের কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঈদ শুভেচ্ছা ফেস্টুন পোস্টার চোখে পড়ারমত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সরব রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তরুণ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা। নির্বাচনি এলাকার দলীয় নেতাকর্মীসহ ভোটারদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা একেএম রেজাউল করিম তানসেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে উঠান বৈঠক, জনসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন জনগণের কাছে তুলে ধরছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন।
পাশাপাশি বসে নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যাপক আহছানুল হক। তিনি দুই উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ জনগণের কাছে তুলে ধরছেন শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন। নতুন ও তরুন ভোটারদের টার্গেট করে আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন চিত্রসহ লিফলেট বিতরণ করছেন এই তরুণ নেতা। ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য এবার পবিত্র ঈদুল আযহাকে টার্গেট করেছেন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
এদিকে, জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির বগুড়া-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন দুজন। জাপার কেন্দ্রীয় নেতা ও বগুড়া জেলা যুব সংহতির সভাপতি শহীন মোস্তফা কামাল ফারুক সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করছেন দুই উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে। দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন তিনি। এছাড়া নন্দীগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী নুরুল আমিন বাচ্চু কৌশল হিসেবে দলটির বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
অপরদিকে, পবিত্র ঈদুল আযহাকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বগুড়া জেলা বিএনপির-সহ সভাপতি ও নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট রাফী পান্না দলীয় নেতাকর্মীদের আস্থা গড়তে সক্ষম হয়েছেন। দুই উপজেলায় দলীয় কর্মসূচী ও গণসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। জেলা বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনী আমেজ শুধু শাসক দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, মামলা, হামলা এখনো চলছে। নির্বাচনের আগে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তিকেই আমরা প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছি। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা শ্রমিক দলের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন ঢাকায় বসবাস করলেও ঈদুল আযহার আগেই এসেছেন নির্বাচনি এলাকায়। মাঠ ছাড়তে রাজি নন জিয়া ফাউন্ডেশন (লিগ্যাল সেল) কো-অডিনেটর এডভোকেট গোলাম আকতার জাকির। জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফেস্টুন পোস্টারে জামায়াত নেতা ও কাহালু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা তায়েব আলীর প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে।
এস আই মিরাজ/ এসএম





