রাজশাহীতে নাশকতা প্রতিরোধ করতে দুই ভাই, জীবন বাজি রেখে দুঃসাহসী পদক্ষেপ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পলায়নরত দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়ে তারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দু'জনেরই শরীরে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। পুলিশ বলছে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সে সময়ের বর্ণনা দিয়ে বড় ভাই মাসুম বলেন, 'বাসে আগুন দেওয়ার সময় আমি লাইনের ওপার থেকে তাদের ধাওয়া করি, আশেপাশে থেকে আরও লোকজন ছুটে আসায় তারা পালিয়ে যায়।'

সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় স্থানীয়দের নিয়ে দুর্বৃত্তদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিলেন ছিলেন মাসুম ও কাজিম। শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় দুর্বৃত্তরা। তবে যাওয়ার আগে তাদের ছোঁড়া ককটেলে গুরুতর আহত হন এই দুই ভাই।

ছোট ভাই কাজিম বলেন, 'সামনে যে ছিলো, সে দুই পকেট থেকে বোমা বের করে দুই পাশে মারছিলো, তার পেছনে আরও একজন পেছন দিকেই বোমা মারছিলো; চারদিক থেকে কেউ যেন তাদের ধরতে না পারে, এজন্য দুই হাতেই বোমা ছুঁড়ছিলো তারা।'

পরে তাদেরকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে প্রক্রিয়া চলছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. শিলটন দাস বলেন, 'কাজিমের হাতে আঘাত লেগেছিলো, সেখানে ব্যান্ডেজ করা আছে, আমরা এক্স-রে করে দেখেছি, ভয়ের কিছু নেই।'

বোয়ালিয়া মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, 'বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে, নাশকতাকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে, ভতিষ্যতেও এ ঘটনা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।'

বৃহস্পতিবার পুলিশি পাহারায় চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে নাটোর যাচ্ছিলো এক পণ্যবাহী গাড়িবহর। পথে বহরটি রাজশাহীর দড়িখরবোনায় পৌঁছালে তাতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় নাশকতাকারীদের রুখে দিতেই তাদের ছোঁড়া ককটেলে আহত হন মাসুম ও কাজিম। তারা দুজনেই পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

জেআই